নঈম নিজাম-ফরিদা ইয়াসমিনের ২২ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ, জমা ৪ কোটি ২১ লাখ টাকা
নঈম নিজাম-ফরিদা ইয়াসমিনের ২২ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

নঈম নিজাম-ফরিদা ইয়াসমিনের ২২ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ, আদালতের নির্দেশে জমা ৪ কোটি ২১ লাখ টাকা

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাবেক সম্পাদক নঈম নিজাম, তার স্ত্রী সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন এবং তাদের সন্তানের নামে থাকা মোট ২২টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন। এসব ব্যাংক হিসাবে বর্তমানে প্রায় ৪ কোটি ২১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা জমা রয়েছে বলে আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালতের আদেশ ও দুদকের আবেদনের বিবরণ

রবিবার (৮ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালতে দুদকের পক্ষ থেকে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. রাকিবুল হায়াত একটি আবেদন দাখিল করেন। এই আবেদনে নঈম নিজাম, ফরিদা ইয়াসমিন এবং তাদের সন্তানের নামে থাকা বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাব অবরুদ্ধ করার জন্য আদালতের কাছে অনুরোধ জানানো হয়। আদালত উক্ত আবেদনটি গ্রহণ করে অবিলম্বে হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করার নির্দেশনা জারি করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, "দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত নঈম নিজাম, ফরিদা ইয়াসমিন এবং তাদের সন্তানের নামে থাকা মোট ২২টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন। এসব হিসাবে প্রায় ৪ কোটি ২১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা জমা রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।"

দুদকের অভিযোগ ও অনুসন্ধানের প্রেক্ষাপট

দুদকের পক্ষ থেকে আদালতে দাখিলকৃত আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নঈম নিজাম এবং ফরিদা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ বর্তমানে অনুসন্ধানাধীন রয়েছে। অনুসন্ধানকালে গোপন সূত্র থেকে জানা গেছে, অভিযুক্তরা তাদের মালিকানাধীন বা স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অস্থাবর সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে অবিলম্বে তাদের মালিকানাধীন বা স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা একান্ত প্রয়োজন। যদি এসব হিসাব অবরুদ্ধ করা না হয়, তাহলে বিচারকালে তা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হবে না, যা রাষ্ট্রের অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আদালতের সিদ্ধান্তের তাৎপর্য ও সম্ভাব্য প্রভাব

আদালতের এই সিদ্ধান্ত দুদকের চলমান অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার মাধ্যমে অভিযুক্তদের সম্পদ স্থানান্তর বা অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে, যা ভবিষ্যতে বিচারিক কার্যক্রমে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

এ বিষয়ে আইন বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করে বলেন, "অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা একটি সাধারণ আইনী প্রক্রিয়া, যা অনুসন্ধান ও বিচার কাজে গতি আনে। দুদকের আবেদন এবং আদালতের দ্রুত সাড়া দুর্নীতি দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।"

নঈম নিজাম এবং ফরিদা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং আইনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত তাদের ব্যাংক হিসাবগুলো অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকবে। আদালতের এই আদেশ দুর্নীতি দমন ও অর্থ পাচার রোধে রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থানেরই প্রতিফলন বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন।