দুদকের মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরের জামিন নামঞ্জুর, আদালতের রায়
দুদক মামলায় আনিস আলমগীরের জামিন নামঞ্জুর

দুদকের মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ রোববার ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী তাসলিমা জাহান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আদালতের শুনানি ও সিদ্ধান্ত

আইনজীবী তাসলিমা জাহান জানান, এই মামলায় আনিস আলমগীরের জামিন চেয়ে আবেদন করা হয় গত ২৫ ফেব্রুয়ারি। আদালত শুনানির জন্য আজ ৮ মার্চ দিন ধার্য করেছিলেন। আজ শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

এই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে উল্লেখ করেন আইনজীবী তাসলিমা জাহান। তিনি বলেন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পূর্ববর্তী ঘটনাপ্রবাহ

গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি ব্যায়ামাগার থেকে আনিস আলমগীরকে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে নেওয়া হয়। পরদিন ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে উত্তরা পশ্চিম থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে পাঁচ দিন রিমান্ডে নেওয়া হয় এবং রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়।

উল্লেখ্য, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গত ৫ মার্চ আনিস আলমগীরকে জামিন দেন উচ্চ আদালত। তবে দুদকের মামলায় তাঁর অবস্থান ভিন্ন।

দুদকের মামলার বিবরণ

দুদক গত ১৫ জানুয়ারি আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে। ২৫ জানুয়ারি এই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে দুদক, যা আদালত মঞ্জুর করেন।

এই মামলায় আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদকের দাবি, তিনি বৈধ আয়ের উৎস ছাড়াই এই বিপুল অর্থের সম্পদ অর্জন করেছেন।

এই মামলাটি বাংলাদেশের আইন-আদালত ব্যবস্থায় সাংবাদিকতা ও দুর্নীতি দমনের প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর আনিস আলমগীরের আইনি লড়াইয়ের দিকটি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।