কক্সবাজারে এসপি আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও অপরাধের অভিযোগ
এসপি আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অপরাধের অভিযোগ

কক্সবাজারে এসপি আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও অপরাধের অভিযোগ

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি (এসপি) আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি কথায় কথায় আগাম জিডি করে অপরাধ ঢাকার চেষ্টা করছেন, পাশাপাশি নারী নির্যাতন, অবৈধ অর্থ আদায় এবং মাদক আত্মসাতের মতো গুরুতর অভিযোগে জড়িত।

আগাম জিডির মাধ্যমে অপরাধ ঢাকার কৌশল

এক সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, এসপি আপেল মাহমুদের কথায় কথায় জিডি করার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তিনি সাংবাদিক, জুলাইযোদ্ধা এবং নারীসহ শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগাম জিডি করেছেন। সম্প্রতি লায়লা পরীর বক্তব্যসংবলিত ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে, তিনি বাঁচার কৌশল হিসেবে এই জিডিগুলো প্রকাশ করেন। এছাড়া, তার অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ রয়েছে এমন নারীদের বিরুদ্ধেও অভ্যন্তরীণ জিডি করে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নারী নির্যাতন ও প্রতারণার অভিযোগ

কক্সবাজারে উদ্যোক্তাসহ কমপক্ষে ১৫ জন পরিচিত তরুণীকে আপেল মাহমুদের ডেরায় নিয়মিত আসা-যাওয়া করতে দেখা যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাঁচ ভুক্তভোগী সরল স্বীকারোক্তি দিয়েছেন যে, তারা তার লালসার শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ ফ্ল্যাট কিনে দেওয়ার আশ্বাস, কেউ বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এছাড়া, লায়লা পরী নামে এক নারী দাবি করেছেন যে, আপেল মাহমুদ তাকে ধর্ষণ করেছেন। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আত্মরক্ষার জন্য গোপনে ওই নারীর বিরুদ্ধে জিডি করেন।

অবৈধ অর্থ আদায় ও মাদক আত্মসাৎ

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, আপেল মাহমুদ বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি ও জেলা প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই সৈকতের একটি অংশ ৩০ লাখ টাকায় ভাড়া দিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। লাবণী থেকে কলাতলী পয়েন্ট পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এলাকায় একটি স্টিল কোম্পানির বিজ্ঞাপন বসানোর ক্ষেত্রেও অনুমোদন না নিয়েই কাজটি করা হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য নির্মিত ওয়াচ টাওয়ার, অভিযোগ কেন্দ্র এবং পুলিশ বক্স অবৈধভাবে ভাড়া দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

এছাড়া, ২০২৫ সালের নভেম্বরে একটি হোটেল থেকে ইয়াবা জব্দের সময় প্রায় ২০ হাজার পিস ইয়াবা থাকলেও মামলায় মাত্র ২০০ পিস দেখিয়ে ১০ লাখ টাকায় বিষয়টি রফাদফা করার অভিযোগ উঠেছে। তিনি কটেজ জোনের পতিতালয় ও অবৈধ স্পা থেকে মাসিক ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত মাসোয়ারা আদায় করেন বলে জানা গেছে।

দাগি অপরাধীদের সমর্থন ও প্রতিক্রিয়া

আপেল মাহমুদ রোহিঙ্গাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দাগি অপরাধীদের জড়ো করে একটি ‘সাংবাদিক বাহিনী’ গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই দলের সদস্যরা ‘সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদ’ নামে একটি সংগঠনের মাধ্যমে তার পক্ষে বিবৃতি দিয়েছেন। তবে, এসব অভিযোগের সম্মুখীন হয়ে আপেল মাহমুদ প্রতিবেদককে বড় ভাই সম্বোধন করে বলেন, “আপনি হলেন আমার বড় ভাই, আপনার কাছে সারেন্ডার করছি। ভয়ে বাঁচার জন্য এসব করেছি।” তিনি আরও জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সাংবাদিকের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির কথা বলেছেন।

এই ঘটনাগুলো কক্সবাজারে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মামলা বা তদন্তের খবর না পাওয়া গেলেও, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠছে।