সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়ার জেরা: কেনাকাটায় দুর্নীতি স্বীকার, তদন্ত করেননি
সাবেক সেনাপ্রধানের জেরা: কেনাকাটায় দুর্নীতি স্বীকার

সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়ার জেরা: কেনাকাটায় দুর্নীতি স্বীকার, তদন্ত করেননি

সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালে পঞ্চম দিনের জেরায় সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, তার দায়িত্বকালে সেনাবাহিনীতে কেনাকাটা-সংক্রান্ত দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছিল। তবে তিনি দাবি করেছেন, এই বিষয়টি তার এখতিয়ারের বাইরে থাকায় তিনি কোনো তদন্ত পরিচালনা করেননি।

জেরায় কী বললেন সাবেক সেনাপ্রধান?

ইকবাল করিম ভূঁইয়া স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন, "আমি সেনাপ্রধান থাকাকালে কেনাকাটা-সংক্রান্ত দুর্নীতি হয়েছিল। তবে তা আমার এখতিয়ারের বাইরে বিধায় আমি এই বিষয়ে তদন্ত করিনি।" তার এই বক্তব্য ট্রাইব্যুনালে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জেরাকালে তিনি আরও জানিয়েছেন, ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সিনিয়র অফিসারদের মধ্যে অনেকে জড়িত ছিলেন, কিন্তু তাদের নাম他现在 মনে করতে পারছেন না। অফিসারদের বিরুদ্ধে অবৈধ আয়ের উৎস শনাক্ত করা সত্ত্বেও তিনি কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, কারণ সেটিও তার এখতিয়ারের বাইরে ছিল বলে তিনি দাবি করেছেন।

মামলার পটভূমি ও বর্তমান অবস্থা

এই সাক্ষ্যগ্রহণটি সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার অংশ। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে শতাধিক মানুষকে গুম ও খুনের ঘটনায় এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলাটির বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

মামলার গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ:

  • গত ১৪ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়েছে।
  • দ্বিতীয় অভিযোগে অপরাধের সময়কাল ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
  • ইকবাল করিম ভূঁইয়া ২০১২ সালের ১৫ জুন থেকে ২০১৫ সালের ২৪ জুন পর্যন্ত সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

পরবর্তী কার্যক্রম

ইকবাল করিম ভূঁইয়ার জেরা শেষে ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৯ মার্চ দিন ধার্য করেছেন। মঙ্গলবারের শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী আবুল হাসান তাকে জেরা করেন। এই মামলায় আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যের অপেক্ষায় রয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

উল্লেখ্য, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোতে নতুন গতি সঞ্চারিত হয়েছে। সাবেক সেনাপ্রধানের এই সাক্ষ্য মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।