দুদকের মামলায় ফারইস্টের সাবেক চেয়ারম্যান ও এমডিসহ ছয়জন, ১৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. হেমায়েত উল্যাহসহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে। এই মামলায় অভিযোগ উঠেছে যে, ফারইস্ট টাওয়ার-২ এর সিভিল ও ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল কাজের নামে ভুয়া কার্যাদেশ ও জাল বিল ভাউচার তৈরি করে ১৩ কোটি ৭১ লাখ ৫১ হাজার টাকা আত্মসাত করা হয়েছে।
মামলার বিস্তারিত বিবরণ
দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, মামলার অপর আসামিরা হলেন ফারইস্টের সাবেক উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ও কোম্পানি সেক্রেটারি সৈয়দ আব্দুল আজিজ, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী এবং বিনিয়োগ ও রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আমীর মোহাম্মদ ইব্রাহীম, সাবেক সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ব্যাংকিং শাখা প্রধান শেখ আব্দুর রাজ্জাক এবং সাবেক হেড অব ইন্টারনাল অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স মো. কামাল হোসেন হাওলাদার।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৬ সালে রাজধানীর ৩৬ তোপখানা রোডের ফারইস্ট টাওয়ার-২ এ কোম্পানির ভবনের সাপ্লাই ও কনস্ট্রাকশন সংক্রান্ত সিভিল, ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল রেট্রোফিটিং কাজের নামে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডকে (এনডিই) অগ্রিম অর্থ প্রদানের জন্য ভুয়া কার্যাদেশ জারি করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট কমিটির সভার এজেন্ডায় এ ধরনের অগ্রিম প্রদানের বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল না এবং অনুমোদিত রেজুলেশনেও কোনও স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি।
জালিয়াতির পদ্ধতি ও অর্থ আত্মসাত
পরবর্তীতে জাল আবেদনপত্র ও বিল ভাউচার তৈরি করে মোট ১৩ কোটি ৭১ লাখ ৫১ হাজার টাকার ১৬টি চেক ইস্যু করা হয়। এসব চেকের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তর করে একটি অংশ দিয়ে ফারইস্ট ইসলামী প্রোপার্টিজ লিমিটেডের নামে পূর্বে জালিয়াতির মাধ্যমে গৃহীত ঋণ সমন্বয় করা হয় এবং বাকি অর্থ নগদে উত্তোলন করে আত্মসাত করা হয়।
আকতারুল ইসলাম আরও জানান, সংশ্লিষ্ট ভাউচারে কোনও অনুমোদনকারী বা নিরীক্ষা-সংক্রান্ত স্বাক্ষর ছিল না এবং ব্যয়ের পক্ষে কোনও বৈধ সাপোর্টিং ডকুমেন্টও পাওয়া যায়নি। ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত এ অনিয়মের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার, জাল-জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় আইন লঙ্ঘন করেছেন। তদন্তকালে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই মামলাটি দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
