ফিনিক্স পাখির মতো রাজনীতিতে ফিরে তারেক রহমানের সামনে জনগণের প্রত্যাশা
তারেক রহমানের ফিনিক্স পাখির মতো ফিরে আসা ও জনপ্রত্যাশা

ফিনিক্স পাখির মতো রাজনীতিতে ফিরে তারেক রহমানের সামনে জনগণের প্রত্যাশা

গ্রিক পুরাণের ফিনিক্স পাখির মতো বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনরায় আবির্ভূত হয়েছেন তারেক রহমান। বারবার ধ্বংসের চেষ্টা ও ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল ছিন্ন করে তিনি জনগণের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সন্তান হিসেবে এবার তিনিই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন, যা রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিরল দৃষ্টান্ত।

তারেক বসন্ত ও জনসমর্থনের জয়গাথা

১২ ফেব্রুয়ারি তারিখটি দেশজুড়ে 'তারেক বসন্ত' নামে পরিচিতি পেয়েছে, যা তার ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্ব ও জনসমর্থনের স্পষ্ট প্রমাণ। বাংলার প্রকৃতিতে বসন্তের আবির্ভাবের মতোই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। 'সবার আগে বাংলাদেশ', 'প্রার্থী নয়, মার্কা দেখে ভোট দিন'—এসব আহ্বানে সাড়া দিয়ে জনগণ ব্যালটে ধানের শীষকে বিজয়ী করেছে।

২০০৮ সালে আহত অবস্থায় দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়া তারেক রহমানকে আজ সেই বাংলাদেশের মানুষই দেশ পুনর্গঠনের নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছে। ইংরেজ কবি রবার্ট ব্রাউনিংয়ের The Patriot কবিতার ভাষায়, বাংলার মানুষ তার চলার পথে গোলাপের পাপড়ি বিছিয়ে দিয়েছে। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত সর্বত্র বিজয়ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীত্বের চ্যালেঞ্জ ও জনপ্রত্যাশা

দীর্ঘ ১৮ বছর পর বিএনপি ক্ষমতায় আসায় নেতাকর্মীদের মনে নতুন আশার আলো জেগেছে। তবে জনগণের কাছে দেওয়া 'পরিকল্পনা' ও 'অঙ্গীকার' বাস্তবায়নই তার প্রধানমন্ত্রীত্বের মূল দায়িত্ব। ভঙ্গুর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো নিয়ে বাংলাদেশ পরিচালনা সহজ হবে না। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তাকে কঠোর ও বিচক্ষণ হতে হবে।

জনগণ নেতার ওপর আস্থা রাখেন শর্তসাপেক্ষে। তারেক রহমানের ওপর আস্থার প্রধান শর্ত হলো দেশে শান্তি ফেরানো, দুর্নীতি ও অনিয়মের লাগাম টেনে ধরা। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন সরকারের প্রতি আস্থা তৈরি করা কঠিন, কিন্তু জনগণ তাকেই এই দায়িত্বের জন্য উপযুক্ত বলে বেছে নিয়েছে।

সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের আহ্বান

  1. সৎ ও দক্ষ কেবিনেট গঠন: শহীদ জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভাকে মডেল হিসেবে রেখে সফল প্রফেশনালদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। মন্ত্রী পরিষদের রিভিউ ও ওয়াচডগ সিস্টেম রাখা অত্যাবশ্যক।
  2. সুশাসন প্রতিষ্ঠা: সরকারি দপ্তরে হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে আমলাতন্ত্র, পুলিশ ও বিচার বিভাগের কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।
  3. ইশতেহার বাস্তবায়ন: নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে নিয়মিত ফলোআপ কার্যক্রম রাখতে হবে, জনগণের কাছে আন্তরিকতা প্রমাণ করতে হবে।
  4. নেতাকর্মীদের নেগেটিভ ব্র্যান্ডিং বন্ধ: চাঁদাবাজি ও দখলবাজি বন্ধে টু-স্টেজ পদক্ষেপ নিতে হবে, অভিযোগ উঠলে দলীয়ভাবে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
  5. নতুন প্রজন্মের সাথে সংলাপ: স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের হাতে ছাত্রদলের রাজনীতি নিশ্চিত করতে হবে, ক্যাম্পাস শান্ত রাখতে হবে।
  6. যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ: সরকারি প্রতিষ্ঠানে যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়ে ব্যাংক-বীমার লুটপাট রোধ করতে হবে।
  7. জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলন: ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বাস্তবায়নে জুলাইয়ের স্বপ্ন সরকার পরিচালনায় সক্রিয় রাখতে হবে।

শেষ কথা: জনগণের প্রত্যাশা ও দায়িত্ব

জনগণের হাজারো প্রত্যাশা পূরণে তারেক রহমানকে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হবে। তবে রবার্ট ব্রাউনিংয়ের The Patriot কবিতার সতর্কবার্তা মনে রাখতে হবে: যে জনতা গোলাপের পাপড়ি বিছায়, তারা প্রয়োজনেই বিপরীত প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। অঙ্গীকার পূরণে ব্যর্থ হলে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেয়। তাই সততার সাথে কাজ করে জনগণের কাছে তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে।

'সবার আগে বাংলাদেশ' দর্শন বাস্তবায়ন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশায় ১৭ কোটি মানুষ তার সাফল্য কামনা করে। দেশনায়ক তারেক রহমানের জন্য শুভ কামনা।