নাটোরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে ১০ জন আহত, বাড়ি-দোকান ভাঙচুর
নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার ধানাইদহ গ্রামে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ১০ জন আহত হয়েছেন এবং ১২টি বাড়ি ও দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন বিএনপি নেতাকর্মী এবং ৯ জন জামায়াত নেতাকর্মী রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সংঘর্ষের সময় কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন।
ঘটনার সময়সীমা ও পুলিশি তদন্ত
এই সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত চলমান ছিল। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহাব এবং ইউএনও জান্নাতুল ফেরদৌস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সংঘর্ষের পর পুলিশ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহাব জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংঘর্ষের পটভূমি ও আহতদের অবস্থা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকালে ধানাইদহ বাজারে জামায়াত কর্মী সাকিব ও সাব্বিরকে মারপিট করে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীরা। এ বিষয়ে শনিবার সকালে ধানাইদহ বাজারে ‘আপোস মিটিং’ করার বিষয়ে উভয়পক্ষের নেতাদের মধ্যে আলোচনা হয়। শনিবার সকাল ১০টার দিকে গ্রাম থেকে উভয় দলের লোকজন বাজারে আসার সময় তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে নগর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাসিনুর রহমান, ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আসাব সরকার, জামায়াত কর্মী রফিকুল ইসলাম, সাকিব, সাব্বির, ইব্রাহীম খলিল সৈয়দ, মনির হোসেন, সাইদুল ইসলাম এবং জসিম উদ্দিনের স্ত্রী নাজমা বেগম রয়েছেন। গুরুতর আহত হাসিনুর রহমানসহ দুজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং অন্যদের ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ভাঙচুরের ঘটনা ও রাজনৈতিক বক্তব্য
সংঘর্ষের পর ধানাইদহ গ্রামের জামায়াত কর্মী সানোয়ার হোসেন, ইব্রাহীম খলিল সৈয়দ, আব্দুস সোবহান, সিরাজুল ইসলাম, আল আমিন, মোজাম্মেল হোসেন, মনোয়ার হোসেন, জনাব আলী, জসিম উদ্দিনের বাড়ি এবং ধানাইদহ বাজারে ইব্রাহীম খলিল সৈয়দের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হয়।
এদিকে, এ ঘটনার পর দায়ীদের গ্রেপ্তারসহ নেতাকর্মীদের নিরাপত্তার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা জামায়াত। বড়াইগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান ঘটনার জন্য বিএনপিকে দায়ী করে বলেন, “নির্বাচনে বিএনপির বিশাল জয় হয়েছে, এখন তারা দেশ গঠনে মনোযোগ না দিয়ে ভিন্নমতের মানুষের উপরে যে হামলা নির্যাতন শুরু করেছে তা কারো কাম্য নয়।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বড়াইগ্রাম উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুল আলম রনি দাবি করেন, “যারা হামলার ঘটনায় জড়িত, তারা কেউ বিএনপি কর্মী নয়, তারা সন্ত্রাসী। এছাড়া এটি কোনো রাজনৈতিক বিষয়কে কেন্দ্র করে নয়, পারিবারিক বা সামাজিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষ।”
স্বেচ্ছাসেবক দলের উপজেলা সভাপতি মিজানুর রহমানের মোবাইল ফোনে বার বার কল দিলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
