মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে দেশে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে, এক সপ্তাহে লিটারে ১০ টাকা বৃদ্ধি
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে দেশে ভোজ্যতেলের দামে চাপ

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান যুদ্ধের প্রভাব এখন দেশের নিত্যপণ্যের বাজারে পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে ভোজ্যতেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে খোলা ভোজ্যতেলের লিটারে ১০ টাকা বেড়েছে। একইসঙ্গে খোলা পাম তেলের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।

ঈদের পর থেকে ধীরে ধীরে দাম বাড়ছিল

ঈদুল ফিতরের আগে থেকেই ভোজ্যতেলের দাম একটু একটু করে বাড়ছিল। তবে ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের বাজারে। জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকটের অজুহাতে পরিবহন মালিকরা ভাড়া বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসবের প্রভাব সরাসরি পড়েছে পাইকারি ও খুচরা বাজারের তেলের দামে।

বাজারে সরবরাহ সংকট ও ক্রেতাদের অসন্তোষ

খুচরা বিক্রেতারা জানান, পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, মিলগেট থেকে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে; যার প্রভাব ভোক্তা পর্যায়ে পড়ছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাজধানীর রায়সাহেব বাজার, কলতাবাজার, লক্ষ্মীবাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাজারে খোলা সয়াবিন সাধারণত কেজি ও লিটার দুভাবেই বিক্রি হয়। সরেজমিন দেখা গেছে, বাজারভেদে খুচরা পর্যায়ে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৯৫ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অথচ গত সপ্তাহেই খোলা সয়াবিন তেল ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকায় কেনা গেছে। একইভাবে খোলা পাম তেলের দাম প্রতি লিটার ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যার দাম গত সপ্তাহে ছিল প্রায় ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা প্রতি লিটার।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের বক্তব্য

রহমান অয়েল ট্রেডার্সের মালিক আব্দুর রহমান বলেন, "গত সপ্তাহের তুলনায় তেলের দাম হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। আমরা আগের দামে কিনতে পারছি না, তাই বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।"

ভাই ভাই ভোজ্য তেল ভান্ডারের বিক্রয়কর্মী মো. সোহেল জানান, "সরবরাহ ঠিকমতো না থাকায় বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। কোম্পানি থেকে বেশি দামে তেল আসছে, তাই খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ছে।"

মা ট্রেডার্স আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকার মিজানুর রহমান বলেন, "বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেও দেশে সমন্বয় করা হয়নি। এর ওপর যুদ্ধের কারণে আমদানিতে সমস্যা হচ্ছে। জ্বালানি তেলের সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পরিবহন খরচও বেড়েছে ট্রাক প্রতি ১ হাজার টাকার মতো। এর ফলে তেলের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে।"

ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া

এদিকে ক্রেতারা এই মূল্যবৃদ্ধিতে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ক্রেতা রহিমা বেগম বলেন, "প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে সংসার চালানো খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছে।"

আরেক ক্রেতা হাসান আলী বলেন, "এক সপ্তাহের ব্যবধানে তেলের দাম এতটা বাড়বে ভাবিনি। আমাদের আয় বাড়ছে না, কিন্তু খরচ বাড়ছেই।"

পূর্বের দাম নির্ধারণের তুলনায় বর্তমান অবস্থা

উল্লেখ্য, সর্বশেষ গত ডিসেম্বরে ভোজ্যতেল পরিশোধন কোম্পানিগুলো খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম সমন্বয় করেছিল। তাতে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন ১৭৬ ও পাম তেলের দাম ১৬৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এখন সেই ঘোষিত দামের চেয়েও ২০-২৫ টাকা বেশি দামে বাজারে খোলা সয়াবিন ও পাম তেল বিক্রি হচ্ছে।