ঈদের পর রাজধানীর বাজারে সবজি ও মাংসের দামে নাটকীয় পতন
ঈদুল আজহার পর রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন বাজারে পণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে কাঁচাবাজারে শসা ও লেবুর দাম প্রায় অর্ধেক কমে গেছে, যা ঈদের আগের দিনেও চড়া ছিল। গরু ও মুরগির মাংসের দামেও কিছুটা কমতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে মাছের বাজারে ক্রেতার ভিড় নেই বললেই চলে, এবং দাম তেমন কমেনি।
কাঁচাবাজারে দাম কমার চিত্র
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ দোকান বন্ধ রয়েছে। তবে মাংসের দোকান ও কাঁচাবাজারে তুলনামূলক বেশি বেচাকেনা হচ্ছে।
শসার দাম প্রতি কেজি ৪০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ঈদের আগের দিন ৬০-১০০ টাকা ছিল। লেবুর দামও কমে প্রতি হালি ৫০-১০০ টাকায় নেমে এসেছে, আগে যা ৮০-১২০ টাকা ছিল। বেগুনের দামও কেজিতে ২০-৪০ টাকা কমেছে। তবে কাঁচা মরিচ, টমেটো, গাজরসহ কিছু সবজি আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।
মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটের সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ আব্বাস বলেন, ‘এখনো ঈদের জন্য আনা অনেক সবজি বিক্রি হয়নি। তাই কিছু পণ্যে লাভ কম হলেও বিক্রি করে দিচ্ছি।’
মাছের বাজারে নীরবতা
মাছের বাজারে ক্রেতার ভিড় নেই বললেই চলে। ঈদে মাংসের চাহিদা বাড়ায় মাছের চাহিদা কমে গেছে। ইলিশ ও চিংড়ি মাছের দাম ঈদের আগে বেড়েছিল, কিন্তু এখন ইলিশের দাম কিছুটা কমেছে।
টাউন হল বাজারে মাঝারি আকারের ইলিশ প্রতিটি ১,৮০০ থেকে ২,০০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, এখন এক কেজির আশপাশের ইলিশের দাম ২,২০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। তবে চিংড়ির দাম কমেনি, গলদা চিংড়ি আকারভেদে ৮০০ থেকে ১,৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কৃষি মার্কেটের মাছ বিক্রেতা শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘এখনো আগের দামেই চিংড়ি বিক্রি করছি। এবার চিংড়ির দাম বেশি হওয়ায় তেমন বিক্রি হয়নি। তাই এখন কিছু লোকসান হলেও বিক্রি করে দিচ্ছি।’
মাংসের দামে কমতি
গরুর মাংসের দাম ঈদের পর কিছুটা কমেছে। রাজধানীর তিন বাজার ঘুরে দেখা যায়, গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭০০-৭৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ঈদের আগে ৭৫০-৮৫০ টাকা ছিল।
মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটের মাংস বিক্রেতা মোহাম্মদ আরমান বলেন, ‘আমরা গাবতলী থেকে গরু সংগ্রহ করি। সেখানে চাহিদা বাড়লে গরুর দাম বেড়ে যায়। আজ কম দামে পেয়েছি। তাই কমেই বিক্রি করছি।’
মুরগির দাম তেমন কমেনি। সোনালি মুরগি ৩৪০-৩৭০ টাকায়, ব্রয়লার মুরগি ২১০-২২০ টাকা কেজিতে, এবং দেশি মুরগি ৬৫০-৭০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের মতামত
ব্যবসায়ীরা জানান, এবার ঈদে বেচাকেনা ভালো হয়েছে, কিন্তু এখনো নতুন পণ্যের সরবরাহ আসেনি। পুরোনো মজুতের পণ্য শেষ করার জন্য অনেকেই দাম কমিয়ে দিয়েছে। বাজারে ক্রেতা না থাকায় চাহিদাও কম। নতুন চালানের পণ্য আসতে আরও দু-তিন দিন লাগবে বলে তারা মনে করেন।



