ঈদের আগে রাজধানীর কাঁচাবাজারে মসলা-মাংসের দামে আকাশচুম্বী উত্থান
ঈদে মসলা-মাংসের দামে আকাশচুম্বী উত্থান, সবজির দামে স্বস্তি

ঈদের আগে রাজধানীর কাঁচাবাজারে মসলা-মাংসের দামে আকাশচুম্বী উত্থান

পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের আনন্দময় উৎসবের প্রাক্কালে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন কাঁচাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে ব্যাপক উত্থান পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশেষ করে মসলা, মাংস ও মাছের মূল্যে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যদিও সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তির খবর পাওয়া গেছে।

মসলার বাজারে তীব্র দাম বৃদ্ধি

বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) বিভিন্ন বাজার পরিদর্শন করে দেখা গেছে, ঈদের চাহিদা মেটাতে গিয়ে মসলার দামে সবচেয়ে বেশি ওঠানামা হয়েছে। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে প্রতি কেজি মসলার দাম ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এলাচির (কার্ডামম) দামে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি ঘটেছে, যা এখন প্রতি কেজিতে প্রায় ৫,০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে—গত সপ্তাহের তুলনায় ২২০ থেকে ২৫০ টাকা বেশি।

অন্যান্য মসলার দামও ঊর্ধ্বমুখী। দারচিনি বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি, জায়ফল ১,৫০০ টাকা এবং জৈত্রী ৪,০০০ টাকা কেজি দরে। লবঙ্গের দাম ১,৮০০ থেকে ২,০০০ টাকা এবং জিরা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি। শুকনো ফলেও একই প্রবণতা দেখা গেছে, কাজু বাদাম প্রতি কেজিতে ১,৮০০ টাকা এবং পেস্তা ৪,০০০ টাকায় পৌঁছেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মাংস ও মাছের বাজারে ঈদের চাপ

ঈদের উচ্চ চাহিদার কারণে গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজিতে প্রায় ৮০ টাকা বেড়ে এখন ৮৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১,৩৫০ থেকে ১,৪০০ টাকা কেজি, যা গত তুলনায় ১০০ টাকার বেশি বৃদ্ধি নির্দেশ করে।

পোল্ট্রি সেক্টরে ব্রয়লার মুরগির দাম ২১০ থেকে ২২০ টাকা এবং সোনালী মুরগি ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকা কেজি। তবে ডিমের দামে সামান্য কমতি লক্ষ্য করা গেছে। মাছের বাজারেও দাম চড়া রয়েছে, রুই মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং পাবদা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বড় গলদা চিংড়ির দাম প্রতি কেজিতে ১,২০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তেল-চিনি-চালের দামেও ঊর্ধ্বগতি

বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকটের কারণে খোলা তেলের দাম প্রতি লিটারে ২১৫ থেকে ২২০ টাকায় পৌঁছেছে। চিনির দামও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে, স্থানীয় জাত ১৪০ টাকা কেজি এবং আমদানিকৃত চিনি ১০০ থেকে ১০৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ঈদের আরেকটি অপরিহার্য পণ্য চিনিগুড়া চালের দাম প্রতি কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ব্র্যান্ডভেদে ১৪০ থেকে ১৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাজারে স্বস্তির খবর

মাংস ও মসলার দাম বৃদ্ধির বিপরীতে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। অনেক বিক্রেতা ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়ি ফেরার জন্য তাদের মজুদ কম দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

কারওয়ান বাজার কাঁচাবাজারের এক খুচরা বিক্রেতা কামরুল বলেন, "আমি আজ রাতেই গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেব। আমার কাছে প্রচুর মজুদ রয়েছে, তাই সেগুলো কম দামে বিক্রি করে স্টক ফাঁকা করছি।"

পেঁয়াজ বর্তমানে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, আলু ১৮ থেকে ২০ টাকা এবং টমেটো ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে সবুজ মরিচ (৮০ থেকে ১০০ টাকা) এবং লেবু প্রতি হালি (৪টি) ৬০ থেকে ৮০ টাকা দামে তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছে। সেমাইয়ের দাম স্থিতিশীল আছে, ২০০ গ্রামের প্যাকেট ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।