চট্টগ্রামে আগাম কাঁকরোলের দাম কেজি ৪০০ টাকা, ভোক্তা অধিদপ্তর তদারকিতে
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে ঘরের বাজার নিতে নগরের কাজীর দেউড়ি বাজারে এসেছিলেন ব্যবসায়ী জসীম উদ্দিন। তিনি সবজির দোকানে ঘুরে ঘুরে দাম জিজ্ঞাসা করছিলেন। একটি দোকানে আগাম কাঁকরোল দেখে তিনি দাম জানতে চান। দোকানি জানান, প্রতি কেজি কাঁকরোল ৪০০ টাকা। দাম শুনেই তিনি আর না কিনে ফিরে যান।
মৌসুমের আগেই বাজারে আগাম কাঁকরোল
আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে কাজীর দেউড়ি বাজারের সামনে জসীম উদ্দিনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘এখন কাঁকরোলের মৌসুম নয়। তবু বাজারে এসেছে দেখে ভেবেছিলাম এক কেজি নেব। গত বছর মৌসুমের আগে আসা কাঁকরোল ১৫০-২০০ টাকা ছিল। ভেবেছিলাম হয়তো তেমন দাম হবে। কিন্তু ৪০০ টাকা চাইছে।’
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, কাঁকরোল মূলত খরিফ ১ মৌসুমের ফসল। এর ফলনের সময়কাল ১৬ মার্চ থেকে ১৫ জুলাই। তবে বাজারে কাঁকরোল আসতে শুরু করবে আরও ১৫-২০ দিন পর। ফসল এখনো মাঠে। আশপাশের এলাকায় কেউ হয়তো চাষ করেছেন। সেগুলোই এখন বাজারে এসেছে।
কৃষি কর্মকর্তাদের বক্তব্য
চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ কৃষি বিপণন কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ মোর্শেদ কাদের বলেন, ‘মৌসুম শুরুর আগেই বাজারে হয়তো কিছু কাঁকরোল এসেছে। কিন্তু দাম এত বেশি হওয়ার কথা নয়। ঈদের কারণে সরকারি তদারকি সংস্থাগুলোর জনবল কম। এ সুযোগে কিছু ব্যবসায়ী সুযোগ নিয়েছে। আমরা খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেব।’
নগরের কাজীর দেউড়ি বাজারে অন্তত সাতটি দোকানে সবজি বিক্রি হয়। এর মধ্যে ২টি দোকানে কাঁকরোল দেখা গেছে, দুই দোকানেই দাম চাওয়া হচ্ছে ৪০০ টাকা কেজি। বিক্রেতাদের কাছে জানতে চাইলে তাঁরা নিজেদের নাম জানাতে চাননি। তাঁদের ভাষ্য, বাজারে সরবরাহ নেই, কিন্তু চাহিদা আছে। তাই বাড়তি দাম দিয়ে পাইকারি বাজার থেকে এনেছেন তাঁরা।
অন্যান্য বাজারে কাঁকরোলের অবস্থা
নগরের অন্যান্য বাজারে খোঁজ নিয়ে কাঁকরোল পাওয়া যায়নি। মৌসুম না হওয়ায় কিছু কাঁকরোল পাইকারি বাজারে এলেও বেশি দামের কারণে খুচরা ব্যবসায়ীরা কিনছেন না। চট্টগ্রামে সবজির বৃহৎ পাইকারি আড়ত রিয়াজউদ্দিন বাজারেও এখন কাঁকরোলের সরবরাহ নেই।
রিয়াজউদ্দিন বাজারে কথা হয় মেসার্স সুরমা বাণিজ্যালয়ের কর্ণধার সুনীল কুমার চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি বলেন, পাইকারি বাজারে এখন কাঁকরোল নেই। সবচেয়ে বেশি দামি সবজি এখানে পটোল। সর্বোচ্চ ৪৫ টাকা কেজি দরে আড়ত থেকে ছেড়েছেন ব্যবসায়ীরা। বাকি সব সবজির দাম কম।
ভোক্তা অধিদপ্তরের পদক্ষেপ
৪০০ টাকা কাঁকরোলের দাম প্রসঙ্গে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (চট্টগ্রাম বিভাগ) রানা দেব নাথ বলেন, ‘নির্দেশনা অনুযায়ী এখন অভিযানগুলো ঈদবাজার ও ঈদযাত্রাকেন্দ্রিক। কিন্তু কাঁকরোলের দাম ৪০০-৫০০ টাকা চাওয়া অস্বাভাবিক। আমরা দ্রুত সেখানে তদারকিতে যাব।’
এই ঘটনা চট্টগ্রামের বাজারে আগাম সবজির দাম নিয়ন্ত্রণে ভোক্তা অধিদপ্তরের তদারকির গুরুত্ব তুলে ধরছে। ঈদের আগে বাজারে দাম বৃদ্ধি রোধে আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠছে।
