তানোরে কৃষকদের তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন, সরবরাহ সংকটে হতাশা
তানোরে কৃষকদের তেল সংকট, দীর্ঘ লাইনে হতাশা

তানোরে কৃষকদের তেল সংকট: দীর্ঘ লাইনে হতাশা ও উৎপাদন ঝুঁকি

রাজশাহীর তানোর উপজেলায় কৃষকদের মাঝে তেল সংকটের তীব্রতা দেখা দিয়েছে। ভোরের আলো ফোটার আগেই তেলের পাত্র হাতে পাম্পের সামনে দীর্ঘ লাইন জমে উঠছে, কিন্তু সকাল গড়িয়ে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও অনেক কৃষক তেল পাননি। এই অবস্থায় হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। সাম্প্রতিক সময়ে সরেজমিনে তানোরের বিভিন্ন পাম্পে এমন চিত্রই ধরা পড়েছে।

কৃষি কাজে তেলের অভাবে বিপর্যস্ত কৃষকরা

তানোর উপজেলা মূলত একটি কৃষিভিত্তিক এলাকা, যেখানে বর্তমানে আলু উত্তোলন, স্টোরজাতকরণ, বোরো চাষ ও ধান রোপণের মৌসুম চলছে। এসব কাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টর, ট্রলি ও অন্যান্য কৃষি যন্ত্রের জন্য জ্বালানি তেলের প্রয়োজন। কিন্তু তেলের সরবরাহ কম থাকায় কৃষকরা এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ছুটছেন। তেল দেওয়ার খবর পেলেই তারা ভোর থেকে পাম্পের সামনে মোটরসাইকেল, ভটভটি ও তেলের পাত্র নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে পড়ছেন।

এই দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যে তেল পেতে তর্ক-বিতর্ক, হুড়োহুড়ি ও ঠেলাঠেলির ঘটনাও ঘটছে। কখনো কখনো ছোটখাটো মারামারির মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব ও বাংলাদেশে তেল সংকটের আশঙ্কায় অনেক ব্যবহারকারী তেল মজুদ করতে শুরু করেছেন। ফলে, পাম্পগুলো গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে পারছে না।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পাম্পে তেলের সীমিত বরাদ্দ ও কৃষকদের বক্তব্য

গত রোববার (৩০ মার্চ) তানোরের মুন্ডুমালা পৌর এলাকার মেসার্স বিশ্বাস ফিলিং স্টেশনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে মোটরসাইকেল চালকদের ৩০০ টাকার করে পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু অকটেনের সরবরাহ নেই। অন্যদিকে, ভটভটি, ট্রলি, পাওয়ার থ্রিলার ও কৃষি যন্ত্রের জন্য ডিজেল দেওয়া হচ্ছে ৫০০ টাকার করে। বিকাল ৩টার দিকে তেল শেষ হয়ে গেলেও লাইনে তখনো শতাধিক মোটরসাইকেল চালক ও অর্ধশত কৃষক অপেক্ষা করছিলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কলমা ইউপির বিল্লি গ্রামের কৃষক আব্দুস সামাদ বলেন, "সকাল ৬টায় তেলের জন্য এসেছি, কিন্তু এখনো কিছু পাইনি। জমিতে চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যাবে যদি ট্রাক্টর ও ট্রলির তেল না মেলে।" তার মতো আরও অনেক কৃষক জারকিন হাতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। বাবুল হোসেন নামের আরেক কৃষক যোগ করেন, "আলু উত্তোলন ও বোরো রোপণের কাজে তেল শেষ হয়ে গেছে। সকাল ৭টা থেকে অপেক্ষা করছি, তবুও তেল পাচ্ছি না।"

পাম্প মালিক ও কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া

মুন্ডমালা বিশ্বাস ফিলিং স্টেশনের মালিক খাইরুল ইসলাম জানান, আগে তারা গাড়িভর্তি তেল পেতেন,但现在 সপ্তাহে এক বা দুই দিন তেল আসছে, যার পরিমাণ আগের তুলনায় এক তৃতীয়াংশ। তিনি বলেন, "কৃষকদের চাহিদা মেটাতে আমরা ৫০০ টাকার করে ডিজেল দিচ্ছি, যা যথেষ্ট নয়। তেলের বরাদ্দ বাড়ানো দরকার।"

তানোর উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহমেদ বলেন, কৃষকদের ভোগান্তি দূর করতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, "আলু উত্তোলন ও বোরো রোপণের মৌসুমে তেলের চাহিদা বেশি। আশা করছি, বরাদ্দ বাড়ানো হবে, তবে এতে আরও ১০-১৫ দিন লাগতে পারে।" তেল সংকটে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও তার কথায় ফুটে উঠেছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাঈমা খান জানান, কৃষি প্রধান এলাকা হিসেবে তানোরের কৃষকদের জন্য তেলের বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, "চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য চেষ্টা চলছে। উপজেলার চারটি পাম্পের মালিকদেরও সঠিকভাবে তেল সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"

এই পরিস্থিতিতে কৃষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন যে, তেল সংকট দীর্ঘায়িত হলে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তারা দ্রুত সমাধানের দাবি জানাচ্ছেন।