নেপালে আন্তর্জাতিক মৌ চাষ সম্মেলন ২০২৬, বাংলাদেশের গবেষকদের অংশগ্রহণ
নেপালে মৌ চাষ সম্মেলন ২০২৬, বাংলাদেশের গবেষকরা অংশ নেবেন

নেপালে আন্তর্জাতিক মৌ চাষ সম্মেলন ২০২৬, বাংলাদেশের গবেষকদের অংশগ্রহণ

নেপালের অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড ফরেস্ট্রি ইউনিভার্সিটিতে আগামী ৬ থেকে ১০ এপ্রিল আয়োজিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক মৌ চাষ সম্মেলন ২০২৬। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষক, মৌ চাষবিশেষজ্ঞ, কৃষিবিজ্ঞানী এবং নীতিনির্ধারকেরা অংশগ্রহণ করবেন। ৫ এপ্রিল নিবন্ধন ও প্রাক্‌সম্মেলন কার্যক্রমের মাধ্যমে এই আন্তর্জাতিক আয়োজন শুরু হবে।

সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ও কার্যক্রম

‘মডার্ন বিকিপিং প্র্যাকটিসেস ফর হিউম্যান হেলথ, সাসটেইনেবল ক্রপ প্রোডাকশন, অ্যান্ড লাইভলিহুড’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই সম্মেলনে আধুনিক মৌ চাষের মাধ্যমে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, টেকসই কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জীবিকার উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে। মৌমাছির জীববিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য, পরাগায়নপ্রক্রিয়া, মধু ও অন্যান্য মৌ-পণ্যের ব্যবহার এবং বাণিজ্যিক মৌ চাষের সম্ভাবনা নিয়ে একাধিক কারিগরি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশের গবেষকদের অংশগ্রহণ

সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে অংশ নেবেন দুই গবেষক—হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মো. আতিকুল ইসলাম এবং চট্টগ্রামের আলওয়াল মধু জাদুঘর ও গবেষণাকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ মোহাম্মদ মাইনুল আনোয়ার। তাঁদের অংশগ্রহণ দেশের মৌ চাষ ও মধু গবেষণাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সৈয়দ মোহাম্মদ মাইনুল আনোয়ার বলেন, ‘এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের। আমি সুন্দরবনের মধুর অনন্য সংগ্রহপদ্ধতি, ঝুঁকি এবং বৈশিষ্ট্য নিয়ে পোস্টার উপস্থাপনার সুযোগ পেয়েছি। প্রায় ২০টি দেশের অংশগ্রহণে এটি একটি বড় আয়োজন। জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার পর সুন্দরবনের মধু এবারই প্রথম বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপিত হচ্ছে, যা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।’

সুন্দরবনের মধুর আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং

উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের সভাপতি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবন বাংলাদেশের প্রাকৃতিক মধুর সবচেয়ে বড় উৎস। আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে বাংলাদেশের গবেষকদের অংশগ্রহণ মধু গবেষণা, ভেজাল নিয়ন্ত্রণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদনির্ভর জীবিকার বিষয়গুলোকে বৈশ্বিক অঙ্গনে তুলে ধরবে। এতে সুন্দরবনের মধুর আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং আরও শক্তিশালী হবে।

এই সম্মেলনটি মৌ চাষের আধুনিক পদ্ধতি, টেকসই কৃষি এবং জীবিকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের অংশগ্রহণ দেশের মধু শিল্পের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।