বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কৃষিমন্ত্রীর বৈঠক: কৃষক কার্ড বাস্তবায়নে অগ্রগতি ও সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি
কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান অঞ্চলের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাতের শুরুতে কৃষিমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদলকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান, এবং প্রতিনিধিদলের সদস্যরা মন্ত্রীসভায় দায়িত্ব গ্রহণ করায় তাকে উষ্ণ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
কৃষক কার্ড বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও পরিকল্পনা
বৈঠকে মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, কৃষকদের জন্য 'কৃষক কার্ড' চালুর উদ্যোগ ইতিমধ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে। এই কার্ডটি পর্যায়ক্রমে সারা দেশে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে, যা কৃষি খাতের উন্নয়নে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চলতি বছরে পরীক্ষামূলকভাবে বিভিন্ন জেলার ১১টি ব্লকে এই কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে, এবং ধীরে ধীরে এটি সারাদেশে বিস্তৃত করা হবে।
কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, "এই কার্ড কৃষকদের জন্য একটি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করবে এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে।"
বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা ও বিনিয়োগের আগ্রহ
বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিগণ কৃষিখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন, বিশেষ করে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রগুলিতে:
- কৃষি উপকরণ সরবরাহের উন্নতি
- কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের সুবিধা বৃদ্ধি
- বাজার উন্নয়ন ও বিপণন কৌশল শক্তিশালীকরণ
মন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের এই প্রস্তাবনাকে স্বাগত জানান এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কৃষি খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ কৃষিখাতের টেকসই উন্নয়ন ও কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে একমত হন।
উপস্থিতি ও আলোচনার সারসংক্ষেপ
এই বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল ই মোহামেদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেনসহ কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক মিস দিনা উমালি-ডাইনিঙ্গারসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকের সারসংক্ষেপে বলা যায়, কৃষি মন্ত্রণালয় ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে একটি শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে উঠছে, যা কৃষি খাতের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। কৃষক কার্ডের বাস্তবায়ন এবং বিশ্বব্যাংকের বিনিয়োগ সহযোগিতা বাংলাদেশের কৃষি সেক্টরের ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।



