সার ডিলারদের হুঁশিয়ারি: নীতিমালা বাতিল না হলে সার কার্যক্রম বন্ধ
অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত নীতিমালা ২০২৫ বাতিলের দাবিতে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ)। রোববার (২৯ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়। সংগঠনটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যদি নীতিমালা বাতিল না হয়, তাহলে সারা দেশে একযোগে সব সার ডিলার ও খুচরা সার বিক্রেতাগণ কৃষকের কাছে সার বিক্রয়সহ সব কার্যক্রম অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ রাখবে।
বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের দাবি
বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই বিএফএ নীতিমালা ২০২৫ কে জনস্বার্থ বিরোধী আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে। সংগঠনের নেতারা কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের কাছে একাধিকবার লিখিতভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন। তাদের দাবি অনুযায়ী, নীতিমালা ২০২৫ এর কার্যক্রম আপাতত স্থগিত ঘোষণা করে বিদ্যমান ২০০৯ নীতিমালা বহাল রাখতে হবে। পাশাপাশি, অধিকতর পর্যালোচনা ও সব অংশীদারদের মতামত নিয়ে নতুন করে যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়নেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।
আন্দোলনের ধারাবাহিকতা ও হুমকি
কৃষিমন্ত্রী এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় ডিলারদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গত ১১ মার্চ প্রায় ২০ হাজার সার ডিলার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে। ওই কর্মসূচিতে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দুই কর্মদিবসের মধ্যে সরকার তাদের ন্যায্য দাবি না মানলে দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেন। সেই ধারাবাহিকতায়, এখন সার বিক্রয়, বিতরণ, উত্তোলন, সরবরাহ এবং পরিবহণসহ সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
কৃষি সেক্টরে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থ বিরোধী নীতিমালা ২০২৫ এর কার্যক্রম শুরু হলে সারা দেশের ৪৬ হাজার খুচরা সার বিক্রেতা দীর্ঘদিন যাবত তাদের ব্যবসায় বিনিয়োগের লাখ লাখ টাকা মাঠে অনাদায় রেখে বেকার ও নিঃস্ব হয়ে যাবে। এর ফলে কৃষি সেক্টরে বিরাট বিশৃঙ্খলা বিরাজ করার আশঙ্কা রয়েছে। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে যুদ্ধের কারণে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট, অপরদিকে সার সংকট দেখা দিলে দেশে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা বিরাজ করতে পারে।
সরকারের পদক্ষেপ ও কমিটি গঠন
এমন অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. খোরশেদ আলম (যুগ্ম সচিব সংযুক্ত) এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, মন্ত্রীর নির্দেশে গত ১৫ মার্চ ২০২৬ এ নীতিমালা ২০২৫ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত পরিপত্রের অনুচ্ছেদ ২(ঙ) কার্যক্রমের সময় এক মাস বৃদ্ধি করা হয়েছে। অর্থাৎ, ৩১ মার্চের পরিবর্তে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সাব ডিলার বা খুচরা সার বিক্রেতাগণ পূর্বের নিয়মে সার ক্রয় বিক্রয় করতে পারবেন। তার সঙ্গে নীতিমালা অধিকতর পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন প্রদানের জন্য একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। ঈদের পরপরই এই কমিটি তাদের সভা করে একটি প্রতিবেদন দাখিল করার কথা রয়েছে।
অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ কৃষি সেক্টরে বিরাট বিশৃঙ্খলা ও সার সংকট নিরসনের জন্য সরকারের নীতি নির্ধারকদের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যদি কঠোর আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, তাহলে এমন পরিস্থিতির জন্য সরকারকেই তার সব দায়ভার বহন করতে হবে।



