রাঙামাটিতে তরমুজের বাজার সয়লাব: উৎপাদন বাড়ায় দামে ধস
রাঙামাটি জেলার হাট-বাজারে তরমুজে ভরপুর থাকলেও দামে ব্যাপক পতন ঘটেছে। এ বছর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ায় বাজার সয়লাব হয়ে পড়েছে, যার ফলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা হতাশ ও মনোক্ষুণ্ণ। স্থানীয় পর্যায়ে তরমুজের দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে, যা রমজানের সময়ের তুলনায় মারাত্মক হ্রাস।
দাম পতনের চিত্র
বর্তমানে রাঙামাটি শহরের বনরূপা বাজারের সমতাঘাটে তরমুজবোঝাই নৌকার ভিড় লক্ষ্য করা যায়। জেলার লংগদু উপজেলার মাইনীবাজারসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রচুর তরমুজ বিক্রির জন্য আনা হয়েছে, কিন্তু বিক্রি কম এবং দামেও ব্যাপক কমতি। রমজানে আকারভেদে তরমুজ ১৫০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ৫০ থেকে ১০০ টাকায় নেমে এসেছে। এমনকি আগে ২০০ টাকা দামের তরমুজ এখন ১০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষকদের।
কৃষকদের দুর্ভোগ
লংগদু উপজেলার কাট্টলী এলাকার কৃষক সমর কান্তি চাকমা জানান, তিনি এ বছর তিন দফায় ১ হাজার ২০০ তরমুজ বিক্রি করেছেন, যার দাম প্রতিটিতে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা ছিল। কিন্তু সর্বশেষ শনিবার ৪৫০টি তরমুজ নিয়ে বাজারে এসে প্রতিটির দাম পেয়েছেন সর্বোচ্চ ১০০ টাকা। তিনি বলেন, "তরমুজ চাষে পরিশ্রম ও খরচ অনেক, সার, কীটনাশক ও পানি সেচ দিতে হয় নিয়মিত। এখন বাজারে তরমুজে ভরপুর, কিন্তু বাইরের পাইকার কম থাকায় ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ নেই।"
ব্যবসায়ীদের লোকসান
স্থানীয় পাইকার মো. আবুল কালামের মতে, রাঙামাটিতে তরমুজের দর এখন একদম কম। প্রচুর তরমুজ বাজারে আসলেও চাহিদা তুলনামূলকভাবে কম। তিনি কয়েক চালানে পাইকারি তরমুজ কিনে খুচরা বিক্রিতে দুইবার লোকসানের শিকার হয়েছেন। এখন প্রতিটি তরমুজ ৫০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে, যা ব্যবসাকে প্রায় শূন্যের কোটায় নিয়ে এসেছে।
জ্বালানি সংকটের প্রভাব
দাম পতনের পাশাপাশি জ্বালানি তেলের সংকটে পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই বাড়তি খরচ বিনিয়োগ তুলতে শঙ্কা বাড়িয়েছে, ফলে স্থানীয় তরমুজ বাজার মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।
কৃষি বিভাগের ব্যাখ্যা
রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, এ বছর জেলায় তরমুজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১১ হাজার ৬০০ টন, যা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, "এ বছর আবহাওয়া অনুকূল এবং কাপ্তাই হ্রদের পানি দেরিতে কমায় চাষাবাদ বেড়েছে। গত বছর ২৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছিল, এ বছর তা বেড়ে ২৭৬ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে, তাই উৎপাদনও বেশি হয়েছে।" তিনি আরও যোগ করেন, শুরুর দিকে দাম ভালো থাকলেও এখন বাজার তরমুজে ভরে যাওয়ায় দাম কিছুটা কমে গেছে।
সর্বোপরি, রাঙামাটিতে তরমুজের এই উৎপাদন বৃদ্ধি কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ না হয়ে বরং চাপ সৃষ্টি করছে, যেখানে দাম পতন ও জ্বালানি সংকট মিলিয়ে অর্থনৈতিক সংকট deepening হচ্ছে।



