সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর ঘোষণা: সারাদেশের দখলকৃত নদী-খাল পুনরুদ্ধার করা হবে
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেছেন, সারাদেশের মতো রাজবাড়ী সদর ও গোয়ালন্দ এলাকার নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর-জলাশয়, যা বিগত দিনে বিভিন্নভাবে মানুষ দখল করে রেখেছে, তা উদ্ধার করা হবে। যেসব জলাশয়ে পলি জমে অকার্যকর হয়ে গেছে, সেগুলোও পুনরুদ্ধার করা হবে। সরকারিভাবে ইতোমধ্যে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে এবং গোয়ালন্দ এলাকায়ও খনন কাজ শিগগিরই শুরু করা হবে।
কৃষি উন্নয়নে ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষি উন্নয়ন ব্যবস্থাকে ত্বরান্বিত করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকারও সেই পথে হাঁটতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, "বিএনপি সরকার গঠনের পর নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী বাংলাদেশের কৃষকরা যাতে কোনো রকম ভোগান্তি ছাড়াই কৃষি কাজ ভালোভাবে পরিচালনা করতে পারে, সে ব্যাপারে আন্তরিকভাবে কাজ শুরু করা হয়েছে।"
কৃষি কার্ড বিতরণের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম
মঙ্গলবার বেলা ১১টায় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের মুন্সী বাজার এলাকায় কৃষি কার্ড বিতরণের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিদর্শনকালে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি পদ্মা নদীর ভাঙনকে এ এলাকার মানুষের প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে এর প্রতিকারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এ লক্ষ্যে দেশের ১০টি জেলায় পাইলটিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে কৃষকদের হাতে কৃষি কার্ড তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়ন একটি। এ ইউনিয়নে আগামী পহেলা বৈশাখ কৃষি কার্ড বিতরণের শুভ উদ্বোধন করা হবে।
কৃষি কার্ডের মাধ্যমে সহায়তা
জেলা কৃষি সম্প্রসারণের উপ-পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের তেনাপচা কৃষি ব্লকে ইতোমধ্যে ১ হাজার ৩৫ জন কৃষকের জরিপ কাজ সম্পন্ন করে অনলাইনের মাধ্যমে তাদের তথ্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে বড়, মাঝারি, প্রান্তিক, দুর্যোগ ও ভূমিহীন—এই পাঁচ ধরনের কৃষক রয়েছেন। এই কৃষি কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রণোদনা সহায়তা পাবেন।
উপস্থিতি ও পরিদর্শন
এ সময় গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাথী দাস, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রায়হানুল হায়দার, ওসি মোমিনুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সুলতান নুর ইসলাম মুন্নু মোল্লা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবলুসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন। প্রতিমন্ত্রী পরে পার্শ্ববর্তী পদ্মা নদীর ভাঙন-কবলিত নদীর পাড় ঘুরে দেখেন।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার কৃষি উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চায় বলে প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



