বিসিএল ওয়ানডে ফাইনালে সেন্ট্রাল জোনের জয়, সাইফ-নাঈমের জুটিতে নর্থ জোনকে হার
বিসিএল ওয়ানডে ফাইনালে সেন্ট্রাল জোনের জয়, সাইফ-নাঈমের জুটিতে হার

বিসিএল ওয়ানডে ফাইনালে সেন্ট্রাল জোনের শিরোপা জয়

সাইফ হাসান ও মোহাম্মদ নাঈমের ১৬৪ রানের দুর্দান্ত জুটিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ওয়ানডে ফরম্যাটের ফাইনালে নর্থ জোনকে পাঁচ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে সেন্ট্রাল জোন। লিগ পর্বে নর্থ জোনকে হারানোর পর ফাইনালেও একই ধারাবাহিকতা ধরে রাখে সেন্ট্রাল জোন। আগে ব্যাট করা নর্থ জোনকে ৪৯.৩ ওভারে ২৩৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে রান তাড়ায় নেমে ১২ ওভার হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে তারা।

সাইফ-নাঈমের জুটিতে লক্ষ্য ছোঁয়া

২৩৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় সেন্ট্রাল জোন। ওপেনার জিশান আলম ১৭ বলে ১৪ রান করে নাহিদ রানার শিকার হন। তবে দ্বিতীয় উইকেটে সাইফ ও নাঈম ইনিংসের হাল ধরেন। নাহিদ ও শরিফুল ইসলামের পেস আক্রমণ সামলে ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ নেয় এই জুটি। সাইফ ৪৯ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন, নাঈম অর্ধশতকে পৌঁছান ৬৩ বলে। সেঞ্চুরির পথে এগোতে থাকলেও রিশাদ হোসেনের আঘাতে ভাঙে জুটি। ৮৭ বলে পাঁচ চার ও তিন ছক্কায় ৭৮ রান করে বোল্ড হন নাঈম। এরপর শরিফুলের বলে ক্যাচ তুলে ৭৮ বলে সাত চার ও তিন ছক্কায় ৮৭ রানে থামেন সাইফ। মাঝে কিছুটা ধীরগতির ব্যাটিংয়ে দুই উইকেট হারালেও লক্ষ্য ছুঁতে সমস্যা হয়নি সেন্ট্রালের। নির্ধারিত ওভারের অনেক আগেই জয় তুলে নেয় তারা।

নর্থ জোনের ব্যাটিং সংকট

এর আগে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে নর্থ জোন। তাসকিন আহমেদ ও রিপন মন্ডলের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দ্রুত উইকেট হারায় তারা। ওপেনার হাবিবুর রহমান ১৭ বলে ৫ রান করে তাসকিনের বলে কিপারের হাতে ক্যাচ দেন। তানজিদ তামিম ২২ বলে ২৩ রান করে রিপনের শিকার হন। লিটন দাস না থাকায় নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহীদ হৃদয় তৃতীয় উইকেটে ৫২ রানের জুটি গড়েন। স্পিন আক্রমণে এসে সাইফ ফেরান শান্তকে (৩৫)। এরপর ৩১তম ওভারে রাকিবুল হাসানের জোড়া আঘাতে মেহেরব হাসান ও আকবর আলী আউট হলে ১২৩ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে নর্থ জোন। হৃদয় এরপর সাব্বির রহমানের সঙ্গে ৬৩ রানের জুটি গড়েন। সাব্বির করেন ২৪ রান। ৬৯ বলে ফিফটি তুলে নেওয়ার পর গতি বাড়ান হৃদয়। শতকের সম্ভাবনা জাগালেও ইনিংসের শেষের চার বল বাকি থাকতে ৯৮ বলে ৯৬ রানে আউট হন তিনি। ফলে ২৫০ রানের গণ্ডি পেরোতে পারেনি নর্থ জোন।

সেন্ট্রাল জোনের বোলিং আধিপত্য

সেন্ট্রাল জোনের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন রিপন মন্ডল। ৯.৩ ওভারে ৪১ রান দিয়ে নেন চার উইকেট। তাসকিন আহমেদ ১০ ওভারে ৫৬ রান দিয়ে শিকার করেন দুটি উইকেট। এই বোলিং পারফরম্যান্স নর্থ জোনের ব্যাটিং লাইনআপকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেন্ট্রাল জোনের দলগত প্রচেষ্টা ও কৌশলগত পরিকল্পনা ফাইনালে তাদের জয় নিশ্চিত করতে সহায়ক হয়েছে।