সাফ জয়ের পুরস্কার এখনো হাতে পাননি বাংলাদেশ নারী ফুটবলাররা
২০২৪ সালে সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) যে দেড় কোটি টাকার বোনাস ঘোষণা করেছিল, তা এখনো হাতে পাননি সাফজয়ী নারী ফুটবলাররা। ঘোষণার পর প্রায় ১৬ মাস কেটে গেলেও সেই অর্থ এখনো তাদের কাছে পৌঁছায়নি। এই অপ্রাপ্তির মধ্যেই আগামীকাল চীনের বিপক্ষে এশিয়ান কাপে ঐতিহাসিক অভিষেক ম্যাচের আগে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের কাছে নতুন বোনাসের ‘আবদার’ তুলেছেন নারী ফুটবলাররা।
সিডনিতে তাবিথ আউয়ালের সামনে উঠল নতুন দাবি
আজ অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বাংলাদেশ দলের টিম হোটেলের সামনে স্বদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল নিজেই প্রকাশ করেন নারী ফুটবলারদের এই চাওয়ার কথা। তাবিথ জানান, মেয়েরা বেশ আত্মবিশ্বাসী এবং ভালো খেলার প্রত্যাশা থেকেই তারা ফেডারেশনের কাছে অগ্রিম পুরস্কার ঘোষণার দাবি তুলেছেন।
তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘গার্ডিয়ানের কাছে তো সব সময় কিছু দাবি থাকতেই পারে। তারা বিশ্বাস করে যে তারা ভালো খেলবে। তারা দাবি করেছে যে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে আমরা যেন অন্তত পরের ম্যাচের জন্য তাদের একটা গিফট বা বোনাস ঘোষণা করি।’
পুরোনো বোনাসের বাস্তবায়ন হয়নি, নতুন আশ্বাস
নারী ফুটবলারদের ‘আবদার’ মেটানোর আশ্বাস দিয়েছেন তাবিথ আউয়াল। তাঁর কথায়, ‘আমি তাদের বলেছি, অবশ্যই আমরা করব। কিন্তু তোমরা বাংলাদেশের জন্য খেলো এবং তোমাদেরকে কোনো না কোনোভাবে একটা গিফট দেব।’ তবে উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ নভেম্বর তাবিথ আউয়ালের নেতৃত্বাধীন বাফুফের নতুন কমিটি তাদের প্রথম সভায় নারী দলের জন্য দেড় কোটি টাকা বোনাস ঘোষণা করেছিল, কিন্তু সেটা এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি।
গত বছর জুলাইয়ে এশিয়ান কাপের টিকিট নিশ্চিত করার পরও মেয়েদের কোনো আর্থিক পুরস্কার দেয়নি বাফুফে। সেবার মিয়ানমারফেরত দলকে বিমানবন্দর থেকে ভোররাতে সরাসরি হাতিরঝিলে সংবর্ধনা দিয়েই দায় সেরেছিল ফেডারেশন। এই ইতিহাস নারী ফুটবলারদের মধ্যে কিছুটা হতাশা সৃষ্টি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এশিয়ান কাপে ইতিহাস গড়ার প্রত্যাশা
তাবিথ আউয়াল জানান, একজন ফুটবল ‘ভক্ত’ হিসেবে তিনি সিডনিতে এসেছেন নারী ফুটবলারদের উৎসাহ দিতে। তাঁর মতে, চীন শক্তিশালী হলেও বাংলাদেশ আগামীকাল আরেকটি ইতিহাস গড়ার সামর্থ্য রাখে। যদিও র্যাঙ্কিং ও শক্তিতে চীনের চেয়ে কয়েক যোজন পিছিয়ে বাংলাদেশ। চীন এশিয়ার সেরা দল হিসেবে পরিচিত, অন্যদিকে বাংলাদেশ এই পর্যায়ে প্রথমবারের মতো খেলে এসেছে।
নারী ফুটবলারদের এই দাবি এবং পুরোনো বোনাসের বাস্তবায়ন না হওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের ক্রীড়া প্রশাসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূত্রপাত করেছে। অনেকেই মনে করছেন, খেলোয়াড়দের আর্থিক ও মানসিক সমর্থন নিশ্চিত করা ফেডারেশনের দায়িত্ব, এবং তা না করলে ভবিষ্যতে দলের মনোবল ও কর্মদক্ষতা প্রভাবিত হতে পারে।
এশিয়ান কাপে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের পারফরম্যান্স সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করবে, এবং সাফল্য অর্জন করলে হয়তো এবার দ্রুত বোনাস বিতরণের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত পুরোনো প্রতিশ্রুতি রক্ষা না হওয়ায় খেলোয়াড়দের মধ্যে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
