বিসিবির নতুন কেন্দ্রীয় চুক্তি: ২৮ ক্রিকেটার, বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) চলতি বছরের জন্য জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকা প্রকাশ করেছে। এবারের চুক্তিতে মোট ২৮ জন ক্রিকেটার জায়গা পেয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে। আগের বছর কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ছিলেন ২২ জন ক্রিকেটার, সেখান থেকে এবার সংখ্যা বেড়ে ২৮-এ দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য, এই চুক্তি ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে শুরু হয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো ও ক্রিকেটারদের তালিকা
বিসিবি এবারও ক্রিকেটারদের চারটি গ্রেডে বিভক্ত করেছে: এ, বি, সি ও ডি। কোনো ক্যাটাগরিতেই পারিশ্রমিক বাড়ানো হয়নি, যা আগের চুক্তির মতোই রয়ে গেছে। তবে চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দলের গভীরতা ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশকে ইঙ্গিত করে।
এ গ্রেড: এই ক্যাটাগরিতে মাসিক বেতন ধরা হয়েছে ৮ লাখ টাকা। এখানে জায়গা পেয়েছেন চার জন ক্রিকেটার: নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন কুমার দাস, তাসকিন আহমেদ এবং মেহেদী হাসান মিরাজ।
বি গ্রেড: বি গ্রেডের ক্রিকেটারদের জন্য মাসিক বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ টাকা। এই ক্যাটাগরিতে রয়েছেন ১১ জন ক্রিকেটার: মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক, তাইজুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, তাওহীদ হৃদয়, হাসান মাহমুদ, নাহিদ রানা, সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান তামিম, রিশাদ হোসেন ও শেখ মেহেদী হাসান।
সি গ্রেড: সি গ্রেডে মাসিক বেতন ৪ লাখ টাকা। এই তালিকায় আছেন ছয় জন ক্রিকেটার: সৌম্য সরকার, জাকের আলি অনিক, শরিফুল ইসলাম, নাসুম আহমেদ, খালেদ আহমেদ এবং তানজিম হাসান সাকিব।
ডি গ্রেড: সর্বশেষ ডি গ্রেডে মাসিক বেতন ধরা হয়েছে ২ লাখ টাকা। এই ক্যাটাগরিতে সাত জন ক্রিকেটার জায়গা পেয়েছেন: পারভেজ হোসেন ইমন, সাইফ হাসান, নাঈম হাসান, তানভীর ইসলাম, হাসান মুরাদ, নুরুল হাসান সোহান এবং শামীম হোসেন।
নতুন মুখ ও প্রত্যাবর্তন
এবারের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে প্রথমবারের মতো জায়গা পেয়েছেন তিন জন ক্রিকেটার: পারভেজ হোসেন ইমন, তানভীর ইসলাম এবং হাসান মুরাদ। এছাড়া, সাইফ হাসান, নুরুল হাসান সোহান, নাঈম হাসান ও শামীম হোসেনের মতো ক্রিকেটাররা চুক্তিতে ফিরে এসেছেন, যা দলের অভিজ্ঞতা ও বৈচিত্র্য বাড়াতে সাহায্য করবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আগের চুক্তি থেকে কোনো ক্রিকেটারই বাদ পড়েননি, যা দলের স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিকতাকে প্রতিফলিত করে।
বিসিবির এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও উন্নয়নের দিকে ইঙ্গিত করে, যেখানে তরুণ প্রতিভা ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী দল গঠনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
