পুরান ঢাকায় ২ হাজার সুবিধাবঞ্চিত পরিবারে ঈদ উপহার বিতরণ
ঈদুল ফিতরের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে রাজধানীর পুরান ঢাকার কোতোয়ালি থানায় অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিকদলের আহ্বায়ক মো. সুমন ভুইয়ার উদ্যোগে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়, যেখানে প্রায় ২ হাজার পরিবারকে পবিত্র ঈদের উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের বিবরণ ও প্রধান অতিথির উপস্থিতি
শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬ তারিখে সকালে পুরান ঢাকার সদরঘাট গাড়ি পার্কিং মাঠে এই ঈদ উপহার বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সদরঘাটের ইজারাদার সুমন ভুইয়ার পক্ষ থেকে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ৩৭ নং ওয়ার্ডের ২ হাজার সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, যিনি এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের বক্তব্য
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেন, "ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং যার যার জায়গা থেকে দরিদ্র-অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।" তিনি উল্লেখ করেন যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে সারাদেশে ঈদের উপহার পাঠিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, "সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানরা যদি তাদের আশেপাশের অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে আমাদের দেশে আর কোন অভাব থাকবে না, প্রত্যেক পরিবারের মুখে ফুটবে হাসি।" তিনি আয়োজকসহ উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতেও এমন মহৎ কার্যক্রম চলমান রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আয়োজক সুমন ভুইয়ার প্রত্যয়
অনুষ্ঠানের সভাপতি সুমন ভুইয়া বলেন, "সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটাতেই আমাদের ঈদ উপহার বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন।" তিনি পবিত্র রমজান মাসের শিক্ষার কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যা সংযম, ত্যাগ, খেদমত ও আত্মশুদ্ধির অনন্য শিক্ষা দেয়। সুমন ভুইয়া বলেন, "এই এক মাসের সাধনা আমাদের আত্মসংযমী হতে এবং অন্যের কষ্ট অনুভব করতে শেখায়। এর মাধ্যমে সমাজে সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব জাগ্রত হয়।" তিনি ভবিষ্যতেও মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে অসহায় মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বিতরণকৃত ঈদ উপহার সামগ্রী
অনুষ্ঠানে প্রায় ২ হাজার গরিব ও অসহায় মানুষের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। উপহার সামগ্রীর তালিকায় নিম্নলিখিত জিনিসপত্র অন্তর্ভুক্ত ছিল:
- পাঞ্জাবী ও লুঙ্গী
- পোলাওয়ের চাল
- তেল ও ডাল
- পেঁয়াজ, সেমাই ও চিনি
এই উদ্যোগটি পুরান ঢাকার স্থানীয় সম্প্রদায়ের মাঝে ঈদের আনন্দ ও সহমর্মিতা ছড়িয়ে দিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে, যা সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করে তুলছে।



