সিলেট বন্ধুসভার সহমর্মিতার ঈদ: ২০০ শিশু ও পরিবারে নতুন পোশাক ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ
সিলেট বন্ধুসভার সহমর্মিতার ঈদ: শিশুদের মুখে হাসি ফোটানো

সিলেট বন্ধুসভার সহমর্মিতার ঈদ: আনন্দ ভাগাভাগির অনন্য উদ্যোগ

ঈদ মানে শুধু নিজের নয়, সবার সঙ্গে খুশি ভাগ করে নেওয়ার উৎসব। এই চেতনাকে সামনে রেখে সিলেট বন্ধুসভা 'সহমর্মিতার ঈদ' কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে, যার মাধ্যমে ধনী-গরিবের ভেদাভেদ ভুলে সৌহার্দ ও সহমর্মিতার বন্ধনকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ঈদের আনন্দকে সমাজের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে দেওয়া, বিশেষ করে যারা অর্থনৈতিক দিক দিয়ে পিছিয়ে রয়েছেন তাদের মুখে হাসি ফোটানো।

বাঘমারা গ্রামে শিশুদের জন্য নতুন পোশাক ও মেহেদি উৎসব

১৮ মার্চ বিকেলে সিলেট বন্ধুসভার সদস্যরা সিলেটের বাঘমারা গ্রামে পৌঁছে যান, যেখানে তারা ১৬০ জন অসচ্ছল শিশুর মাঝে রঙিন নতুন পোশাক—পাঞ্জাবি ও জামা বিতরণ করেন। নতুন পোশাক পেয়ে শিশুদের মুখে ফুটে ওঠে নির্মল আনন্দের হাসি, যা এই কর্মসূচির সাফল্যকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে। পাশাপাশি, শিশুদের নিয়ে একটি মেহেদি উৎসবের আয়োজন করা হয়, যেখানে তাদের হাতে সুন্দর মেহেদি পরিয়ে দেওয়া হয়।

ছয় বছরের আঞ্জুমা উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলে, 'ঈদে এই সুন্দর জামা পরে বাবার সঙ্গে ঘুরতে যাব, নানার বাড়ি বেড়াতে যাব। আর আপা যে সুন্দর হাতে মেহেদি পরাইয়া দিসে, আমারে ঈদের দিন দেখতে অনেক সুন্দর লাগব।' একইভাবে, নয় বছরের আদনাম তার আনন্দ লুকাতে পারেনি এবং বলে, 'নতুন পাঞ্জাবি পেয়ে খুব ভালো লাগছে। আমি অনেক খুশি।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবারগুলোর জন্য ঈদের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

এই আয়োজন শুধু শিশুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; তাদের পরিবারের মাঝেও ঈদের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে ময়দা, চিনি, সেমাই, গুঁড়া দুধ ও তেল। এই উদ্যোগ নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য ঈদের আনন্দকে আরও পূর্ণতা দিয়েছে, কারণ অনেক পরিবারই দৈনন্দিন জীবনের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় বাসিন্দা ইকবাল সাই কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, 'আমরা দিন আনি দিন খাই। এখানে খুব একটা সহযোগিতা আসে না। আপনারা এসেছেন দেখে খুব ভালো লাগছে।' তার কথায় এই কর্মসূচির গুরুত্ব ও প্রভাব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

লামাবাজার এতিমখানায় শিক্ষার্থীদের জন্য উদ্যোগ

একই দিন সকালে, সিলেটের লামাবাজার এতিমখানায় ৪০ জন শিক্ষার্থীর হাতে নতুন পোশাক ও ঈদসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। আট বছরের আরিফ আবেগাপ্লুত হয়ে বলে, 'আমি ভেবেছিলাম, এ বছর নতুন জামা পরা হবে না। আজ খুব খুশি লাগছে, ঈদে নতুন জামা পরতে পারব।' এই উদ্যোগটি এতিমখানার শিশুদের মাঝেও ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে সহায়ক হয়েছে।

কাতার বন্ধুসভার অংশগ্রহণ ও সদস্যদের উপস্থিতি

এই কর্মসূচিতে সিলেট বন্ধুসভার পাশাপাশি কাতার বন্ধুসভাও যুক্ত ছিল, যা উদ্যোগটিকে আরও শক্তিশালী করেছে। কাতার বন্ধুসভার উপদেষ্টা আফজাল আহমেদ বলেন, 'এ বছর সহমর্মিতা ঈদ আমাদের সবার জন্য আনন্দের। সিলেট বন্ধুসভার সঙ্গে যুক্ত হয়ে ঈদের খুশি আরও বেড়ে গেছে।'

কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট বন্ধুসভার বন্ধু ফয়সাল আহমেদ, গায়ত্রী বর্মণ, অনুপমা রায়, প্রণব, সুমন, অমিত, কৃত্য, প্রাণেশ, সালমান, আফজাল, শাকিল, ইকবালসহ আরও অনেকে। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এই উদ্যোগকে সফল করে তুলেছে।

উপসংহার: সহমর্মিতা ও ভালোবাসার বার্তা

সহমর্মিতা আর ভালোবাসার এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে ঈদের আসল আনন্দ লুকিয়ে আছে অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর মধ্যেই। সিলেট বন্ধুসভার এই কর্মসূচি শুধু একটি সামাজিক দায়িত্বই পালন করেনি, বরং এটি সমাজে একতা ও সম্প্রীতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও সমাজের বিভিন্ন স্তরে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে বলে আশা করা যায়।