গুলশানে তিন দিনব্যাপী ঈদ উৎসব 'চাঁদরাত ২০২৬' শুরু
রাজধানীর গুলশান এলাকায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য উৎসব 'গুলশান সোসাইটি চাঁদরাত ২০২৬'। এই আয়োজন নগরবাসীর মধ্যে ঈদের উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা বহন করছে।
উৎসবের সময়সূচি ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান
বুধবার সন্ধ্যায় গুলশান-২ লেক পার্কে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এই উৎসবের উদ্বোধন করা হয় বৃহস্পতিবার বিকালে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে শুরু হয়ে ২০ মার্চ সাহরি পর্যন্ত চলবে এই বর্ণাঢ্য আয়োজন। উৎসবের দ্বিতীয় দিনে বৃষ্টি কাটিয়ে নতুন উদ্দীপনায় শুরু হওয়ায় আয়োজকরা আশা করছেন, এটি নগরবাসীর মাঝে ঈদের আগমনী আনন্দকে আরও বৃদ্ধি করবে।
আয়োজক ও পৃষ্ঠপোষকদের ভূমিকা
এই উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করছে গুলশান সোসাইটি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের যৌথ প্রচেষ্টায়। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছে ব্যাংক এশিয়া। আয়োজকদের মতে, আধুনিক নগরজীবনের ব্যস্ততার মধ্যে হারিয়ে যাওয়া চাঁদরাতের ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আবহকে নতুন করে ফিরিয়ে আনাই এই উৎসবের মূল লক্ষ্য।
উৎসবের বৈশিষ্ট্য ও আকর্ষণ
উৎসবের দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে বৈচিত্র্যময় আয়োজন। ৩০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্র্যান্ড তাদের স্টল নিয়ে অংশগ্রহণ করছে, যেখানে প্রদর্শন ও বিক্রয় করা হচ্ছে:
- প্রিমিয়াম লাইফস্টাইল পণ্য
- হাতে তৈরি গয়না ও অলংকার
- ঘর সাজানোর সামগ্রী ও গৃহসজ্জার উপকরণ
- দেশি-বিদেশি শিল্পকর্ম ও হস্তশিল্প
সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে প্রাণবন্ত করতে প্রতিদিন থাকছে সুফি সংগীত, গজল ও কাওয়ালির মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা। শিশুদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রাখা হয়েছে ঐতিহ্যবাহী পুতুলনাচ, যা পরিবারসহ সকল দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আনন্দের উপলক্ষ হয়ে উঠছে।
আয়োজনে অংশগ্রহণকারী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ
সমগ্র আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংক এশিয়া পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব সোহেল আর. কে. হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন গুলশান সোসাইটির সহ-সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আহসান হাবিব এবং সাংস্কৃতিক বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান মিসেস শ্রাবন্ধী দত্তসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এই উৎসব নগরজীবনে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সৌহার্দ্য ও ঐক্যবোধকে শক্তিশালী করছে বলে মনে করছেন অংশগ্রহণকারীরা।



