ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহে ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাতের প্রস্তুতি সম্পন্ন
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে দেশের সর্ববৃহৎ ঈদুল ফিতরের জামাতের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও উপমহাদেশের সর্বপ্রাচীন ও সর্ববৃহৎ এই ঈদগাহ ময়দানে ১৯৯তম জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জামাত শুরু হবে সকাল ১০টায় এবং ইমামতি করবেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ মাওলানা আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।
নিরাপত্তা ও সুবিধার বিশেষ ব্যবস্থা
জামাতকে নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন জানান, মাঠে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, সেনাবাহিনি ও সাদা পোশাকের পুলিশ মোতায়েন থাকবে। এছাড়াও প্রবেশ পথে আর্চারি ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা, মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি এবং ড্রোনের নজরদারি থাকবে। মুসল্লিদের সুবিধার জন্য ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে শোলাকিয়া স্পেশাল নামের দুটি বিশেষ ট্রেন জামাতের আগে ও পরে চলাচল করবে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বৈশিষ্ট্য
শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের গোড়াপত্তন হয় সুদূর ইয়ামেন থেকে আগত শাহ সূফী সৈয়দ আহমেদ (র.)-এর হাতে। ১৮২৮ সালে তার ইমামতিতে সোয়া লাখ মুসল্লি একসাথে নামাজ আদায় করায় মাঠের নাম হয় ‘সোয়া লাখিয়া’, যা কালক্রমে শোলাকিয়া হিসেবে পরিচিতি পায়। এই মাঠের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো খোলা আকাশের নিচে কোনো শামিয়ানা ছাড়াই জামাত অনুষ্ঠিত হওয়া। ইতিমধ্যে মাঠের সংস্কার কাজ, দাগ কাটা ও রং করার কাজ শেষ হয়েছে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং দেশ-বিদেশ থেকে ছয় থেকে সাত লাখ মুসল্লির ঢল নামবে বলে আশা করা হচ্ছে। কিশোরগঞ্জ-১ আসনের বিএনপি দলীয় সাংসদ মো. মাজহারুল ইসলামও এই ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে প্রতিবছরের মতো এবারও ব্যাপক উপস্থিতির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।



