মাদারীপুরে সহমর্মিতার ঈদ: শিশুদের মুখে হাসি ফোটাল বন্ধুসভা
মাদারীপুর বন্ধুসভার উদ্যোগে শহরের লেকপাড় স্বাধীনতা অঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়েছে সহমর্মিতার ঈদ কর্মসূচি। ১৮ মার্চ সকালে প্রতিবছরের মতো এবারও এই অনুষ্ঠানে অংশ নেয় স্থানীয় সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও পরিবাররা। মোট ৪০ শিশুকে নতুন জামা পরিয়ে দেওয়া হয় এবং ১৩টি নিম্ন আয়ের পরিবারকে ঈদের খাদ্যসামগ্রী উপহার দেওয়া হয়।
হেনা বেগমের আনন্দ: নাতির জন্য নতুন জামা
৭০ বছর বয়সী হেনা বেগম, যিনি গৃহপরিচারিকার কাজ করেন, তাঁর বৃদ্ধ স্বামী, নাতি ও ভারসাম্যহীন মেয়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব বহন করছেন। আট বছরের নাতি মারিয়া আক্তারকে নিয়ে তিনি এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন। নতুন জামা ও খাদ্যসামগ্রী পেয়ে তিনি বলেন, ‘নাতিডার গায়ে নতুন জামাটা সুন্দর মানাইছে। ওর মুখে হাসি দেইখ্যা পরানডা জুরাইয়া গেছে। ব্যাগভরা খাবার পাইয়া খুশি হইছি।’
শিশুদের উচ্ছ্বাস ও মায়েদের কৃতজ্ঞতা
১০ বছর বয়সী জান্নাতি আক্তার লাল রঙের নতুন জামা পেয়ে হাসিমুখে বলে, ‘এবার ঈদে নতুন জামা ফিনবার পারব। অনেক মজা হইবে।’ জান্নাত আরার (৬) মা রাবেয়া খাতুন বলেন, ‘এ বছর সবকিছুর দাম বেশি। মাইয়ারে নতুন জামা কিনে দেওয়ার অবস্থা আমাগো নাই। বন্ধুসভার দেওয়া জামা পেয়ে মাইয়াডা খুশি হইছি।’
খাদ্যসামগ্রী পেয়ে স্বস্তি
আকলিমা বেগম খাদ্যসামগ্রী পেয়ে বলেন, ‘বাজারে সবকিছুর অনেক দাম। ঈদের বাজার করার সামর্থ্য আমাগো নাই। চিনিগুঁড়া, চাল, ডাল, তেল, সেমাই, গুঁড়াদুধ, আলু, পেয়াজ, মশলাসহ অনেক কিছু দিছেন। যা দিয়া ঈদ পার হইয়া যাইবে।’
বন্ধুসভার লক্ষ্য: মানুষের পাশে দাঁড়ানো
মাদারীপুর বন্ধুসভার সভাপতি আঞ্জুমান জুলিয়া বলেন, ‘প্রতিবছর আমরা আনন্দ-উচ্ছ্বাসের সঙ্গে এই অনুষ্ঠান করি। আমাদের একটু প্রচেষ্টায় যদি কারও মুখে হাসি ফোটে। ঈদের দিন পর্যন্ত আমরা সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াব। তাদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করাই আমাদের লক্ষ্য।’
বিতরণ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা ডা. গোলাম সরোয়ার, ডা. অখিল সরকার, সোহেল রানা, এনায়েত হোসেন, অধ্যাপক মকবুল হোসেন, সহসভাপতি শাহাদাত আকন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক পপি আক্তার, অর্থ সম্পাদক আন্না আক্তার, পাঠাগার সম্পাদক কামরুল হাসান, দুর্যোগ সম্পাদক দিয়া ইসলাম ও সদস্য ইরান শিকদার প্রমুখ।
