ঢাকার বায়ু দূষণ: বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দূষিত শহরের তালিকায় রাজধানী
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দূষিত শহরের মর্যাদা পেয়েছে। সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা বায়ু মান সূচকে রাজধানীর স্কোর দাঁড়িয়েছে ২৪৬। এই স্কোর শহরের বায়ুকে 'খুব অস্বাস্থ্যকর' শ্রেণিতে ফেলেছে, যা গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্বের শীর্ষ দূষিত শহরগুলোর তালিকা
বায়ু মান সূচকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরাকের বাগদাদ প্রথম স্থান দখল করেছে ৫৫৯ স্কোর নিয়ে। পাকিস্তানের লাহোর তৃতীয় স্থানে রয়েছে ২৪৬ স্কোর নিয়ে, আর ভারতের কলকাতা চতুর্থ স্থানে আছে ২০৮ স্কোর নিয়ে। এই তালিকা স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলো বায়ু দূষণের মারাত্মক সমস্যার মুখোমুখি।
এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স স্কেল এবং স্বাস্থ্য প্রভাব
বায়ু মান সূচকের স্কেল অনুসারে, ৫০ থেকে ১০০ স্কোরের মধ্যে থাকা বায়ু 'মধ্যম' মানের হিসেবে বিবেচিত হয়। এই স্তরে বায়ুর মান সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য হলেও সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা সীমিত করা উচিত। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর 'সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর', ১৫১ থেকে ২০০ 'অস্বাস্থ্যকর', ২০১ থেকে ৩০০ 'খুব অস্বাস্থ্যকর' এবং ৩০১-এর উপরের স্কোর 'বিপজ্জনক' হিসেবে চিহ্নিত হয়।
দৈনিক বায়ুর মান প্রতিবেদন করে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স, যা বাসিন্দাদের জানায় বায়ু কতটা পরিষ্কার বা দূষিত এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্য প্রভাবগুলো কী। বাংলাদেশে এই সূচক পাঁচটি প্রধান দূষণকারীর ভিত্তিতে গণনা করা হয়: সূক্ষ্ম কণা (পিএম১০ এবং পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড এবং ওজোন।
ঢাকার দীর্ঘস্থায়ী বায়ু দূষণ সমস্যা
ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে বায়ু দূষণের সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছে। শহরের বায়ুর মান সাধারণত শীতকালে খারাপ হয় এবং বর্ষা মৌসুমে কিছুটা উন্নতি দেখা যায়। এই মৌসুমি পরিবর্তন শহরের দূষণ চক্রের একটি নিয়মিত দিক।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমান অনুযায়ী, বায়ু দূষণ বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় সাত মিলিয়ন মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়। এই মৃত্যুগুলোর প্রধান কারণগুলো হলো স্ট্রোক, হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ। এই পরিসংখ্যান বায়ু দূষণের বৈশ্বিক স্বাস্থ্য প্রভাবের ভয়াবহতা স্পষ্ট করে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ঢাকার বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। শহুরে পরিকল্পনা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, শিল্প নির্গমন কমানো এবং সবুজায়ন বৃদ্ধি এই সমস্যা মোকাবিলার সম্ভাব্য উপায় হতে পারে।
