চট্টগ্রামে পাহাড় কাটার দায়ে বিপিসির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
চট্টগ্রাম নগরের জয় পাহাড় আবাসিক এলাকায় পাহাড় কাটার খবর পেয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি দল ঘটনাস্থলে তদন্তে নামে। গতকাল সকালে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়, যার ফলশ্রুতিতে আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কে ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাজ বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে।
পরিদর্শন ও শুনানির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত
পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম নগর কার্যালয়ের পরিচালক সোনিয়া সুলতানা প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জয় পাহাড় আবাসিক এলাকায় নিয়মবহির্ভূতভাবে পাহাড় কাটা হয়েছে বলে আমাদের তদন্তে প্রমাণ মিলেছে। সরেজমিন পরিদর্শন এবং শুনানি প্রক্রিয়া শেষে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করে এই জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। শুনানিতে বিপিসির পক্ষ থেকে উপমহাব্যবস্থাপক এস এম জুবায়ের হাসান ও নিম্নমান সহকারী মো. শিহাব উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
জুবায়ের হাসান শুনানিতে দাবি করেন যে, সুরক্ষা দেয়াল বা রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের জন্য কিছু মাটি কাটা হয়েছিল, কিন্তু পাহাড় কাটা হয়নি। তবে, তিনি জরিমানার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোক্তাদির হাসান এই দাবি খণ্ডন করে বলেন, খতিয়ানে জমির শ্রেণি ‘খিলা’ লেখা থাকলেও বাস্তবে এটি একটি পাহাড়, যা সরেজমিন পরিদর্শনে স্পষ্টভাবে নিশ্চিত হয়েছে।
পরিদর্শন প্রতিবেদনের বিস্তারিত তথ্য
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোতোয়ালি থানার জয়পাহাড় মৌজায় বিএস খতিয়ান নম্বর ৯৭ এবং দাগ নম্বর ৩৮৪-এর ‘খিলা’ শ্রেণির জমিতে ব্যাপক কাটাকাটি করা হয়েছে। এই কাটাকাটির পরিমাপ নিম্নরূপ:
- দৈর্ঘ্য: ১৫০ ফুট
- প্রস্থ: ৮ ফুট
- উচ্চতা: ৮ ফুট
মোট ৯ হাজার ৬০০ ঘনফুট মাটি অপসারণের হিসাব পাওয়া গেছে, যা পরিবেশ সংরক্ষণ আইন (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত। আইন অনুসারে, প্রতি ঘনফুট মাটির জন্য ১০০ টাকা হারে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করে মোট ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারের কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন বলে বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন।
পরিবেশগত প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
এই ঘটনা চট্টগ্রাম নগরে পরিবেশগত অবক্ষয় ও পাহাড় ধ্বংসের চলমান সমস্যাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। পরিবেশ অধিদপ্তর জরিমানা ও কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম রোধে নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, পাহাড় কাটা বন্ধ হলে এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা পাবে। বিপিসির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো না গেলেও, তারা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বিভাগে পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করতে এই ঘটনা একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করতে পারে, যা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সতর্ক করবে। পরিবেশ অধিদপ্তর ভবিষ্যতে আরও কঠোর নজরদারি ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে, যাতে প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় কোনো ছাড় না দেওয়া হয়।
