যশোরের ভবদহে জলাবদ্ধতা নিরসনে তিনটি নতুন প্রকল্প
যশোরের ভবদহ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে তিনটি প্রকল্প নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। ইতিমধ্যে প্রায় ২৬৮ কোটি টাকার দুটি প্রকল্পের নদী ও খাল পুনঃখননের কাজ শুরু হয়েছে। এ ছাড়া নদী দিয়ে জোয়ারের সঙ্গে সাগর থেকে আসা পলি ব্যবস্থাপনার জন্য আরও ২৮০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। পাউবো কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন হবে।
প্রকল্পের বিস্তারিত কার্যক্রম
পাউবো যশোর কার্যালয় সূত্র জানায়, কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্পের (২য় পর্যায়) আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ছয়টি নদী পুনঃখননের কাজ করছে। এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩৯ কোটি ৯৮ লাখ ১৯ হাজার টাকা। প্রকল্পের আওতায় হরি নদীর ১৫ কিলোমিটার, তেলিগাতী নদীর ৫ কিলোমিটার, হরিহর নদের ৩৫ কিলোমিটার, আপার ভদ্রা নদীর ১৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার, টেকা নদীর ৭ কিলোমিটার এবং শ্রী নদীর ১ কিলোমিটার পুনঃখনন করা হচ্ছে।
একই প্রকল্পের আওতায় ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নদীর সঙ্গে যুক্ত ২৪টি খালের ৭৮ দশমিক ২৩০ কিলোমিটার পুনঃখনন করা হচ্ছে। আগামী জুন মাসে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ক্লাইমেট স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের আওতায় ৪৯ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ২ দশমিক ৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ অভয়নগর উপজেলার আমডাঙ্গা খাল সংস্কার করা হবে।
স্থানীয়দের উদ্বেগ ও দাবি
ভবদহের জলাবদ্ধতায় ভুক্তভোগী মানুষ ও আন্দোলনরত সংগঠনের নেতারা বলছেন, ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসন করতে হলে নদী খননের সঙ্গে সঙ্গে নদীগুলো দিয়ে পরিকল্পিত উপায়ে জোয়ার–ভাটা টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট বা জোয়ারাধার) চালু করতে হবে। এ ছাড়া স্থায়ী সমাধানের জন্য চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় নদীর উজানে মাথাভাঙ্গা নদীর সঙ্গে ভৈরব নদের পুনঃসংযোগ দিতে হবে।
মনিরামপুর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের শেখর বিশ্বাস বলেন, ‘নদী কাটার কাজ চললেও কোথাও কোনো সাইনবোর্ড নেই। কীভাবে নদী কাটা হচ্ছে, তার কোনো তথ্য জানতে পারছি না। নদী কেটে ফেলে রাখলে দুই পূর্ণিমার জোয়ারের পলিতে নদী ভরাট হয়ে যাবে। এখনই টিআরএম করতে পারলে নদী সচল হতো; কিন্তু তখন টিআরএম করে কোনো কাজ হবে না। নদী কাটা বৃথা হবে।’
পাউবো কর্মকর্তাদের বক্তব্য
পানি উন্নয়ন বোর্ড, যশোরের কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, ছয়টি নদীর ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার পুনঃখননের কাজ চলছে। ২৪টি খালের ৭৮ দশমিক ২৩০ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। আমডাঙ্গা খালের জমি অধিগ্রহণের কাজ বাস্তবায়নের পর্যায়ে আছে। জমি অধিগ্রহণের পর খালের সংস্কারকাজ শুরু হবে।
পলাশ কুমার ব্যানার্জী আরও বলেন, পলি ব্যবস্থাপনার জন্য ২৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ডিপিপি মন্ত্রণালয়ে পাসের অপেক্ষায় রয়েছে। একনেকে অনুমোদনের পর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শুরু হবে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ভবদহের জলাবদ্ধতা আর থাকবে না।
