সুন্দরবনে জলদস্যুতা দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেবে সরকার: প্রতিমন্ত্রী
সুন্দরবনে জলদস্যুতা দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেবে সরকার

সুন্দরবনে জলদস্যুতা দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেবে সরকার: প্রতিমন্ত্রী

সুন্দরবন অঞ্চলে জলদস্যুতা দমনে সরকার সব ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, অর্থনৈতিক কেন্দ্র ও অগ্রগতি ঠিক রাখার জন্য সুন্দরবনের জলদস্যুতা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খুলনা সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে সুন্দরবন অঞ্চলে জলদস্যুতা দমন বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

জলদস্যুতা নিয়ন্ত্রণে দ্রুত অভিযান

সভায় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, একসময় সুন্দরবন অনেকটায় দস্যুমুক্ত হয়েছিল। তবে আবারও তারা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। ফলে অনেক জেলে বনে মাছ ধরতে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে না। এ ছাড়া, এভাবে চললে ইকো ট্যুরিজম ও ব্লু-ইকোনমি মুখ থুবড়ে পড়বে। তাই সব বাহিনী ও বনবিভাগের সমন্বয়ে দ্রুতই অভিযানে নামা হবে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ

প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনের সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। বনজীবীরা যাতে নিরাপত্তার সঙ্গে কাজ করতে পারে সেজন্য দস্যু দমনে কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। আর সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে কঠোর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সুন্দরবনকে নিরাপদ রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে সরকার।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সুযোগ নেয় জলদস্যুরা

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় জলদস্যুরা সুযোগে অপতৎপরতার জন্য বেছে নিয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার জলদস্যুদের তৎপরতা বন্ধে বদ্ধপরিকর। সরকার এখন বুলু ইকোনমির দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চায়। এ ছাড়া, ইকো ট্যুরিজমসহ এ অঞ্চলের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সুন্দরবন ও জলসীমাকে অবশ্যই নিরাপদ রাখতে হবে। তিনি এ সময় বনবিভাগের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে বনবিভাগকে আরও কার্যকর করার কথা উল্লেখ করেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা

জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আ স ম জামশেদ খোন্দকার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদ। এ ছাড়া, অনুষ্ঠানে বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার জেলা প্রশাসক এবং খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার পুলিশ সুপার সহ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, র‌্যাব-৬, নৌ-পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধানরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।