এশিয়ার বিপন্ন প্রাণীদের সংকট: বন উজাড়, পাচার ও শিকার
এশিয়ার বিপন্ন প্রাণীদের সংকট: বন উজাড় ও পাচার

এশিয়ার বিপন্ন প্রাণীদের সংকট: বন উজাড়, পাচার ও শিকার

এশিয়ার জীববৈচিত্র্য আজ চরম হুমকির মুখে। নয়টি প্রাণী প্রজাতি তাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য লড়াই করছে। বন উজাড়, পাচার ও শিকার এই প্রাণীদের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এশিয়ান হাতি: জঙ্গল কেটে টুকরো হওয়ার শিকার

এশিয়ান হাতি প্রজাতিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ছোট হলেও এদের বেঁচে থাকার জন্য বিশাল জায়গা প্রয়োজন। জঙ্গল কেটে টুকরো করে ফেলা এদের প্রধান হুমকি। বন ছোট হয়ে আসায় চোরা শিকারি ও মানুষের সঙ্গে হাতির সংঘাত বাড়ছে। এদের বাঁচাতে হলে বনের খণ্ডিত অংশগুলো জোড়া লাগানো অত্যন্ত জরুরি।

মধু ভালুক: প্রখর ঘ্রাণশক্তির অধিকারী

মধু ভালুক বা সান বিয়ার তাদের বুকে কমলা-হলুদ রঙের দাগের জন্য পরিচিত। এদের দৃষ্টিশক্তি ও শোনার ক্ষমতা দুর্বল হলেও প্রখর ঘ্রাণশক্তি ও শারীরিক শক্তি দিয়ে তা পুষিয়ে নেয়। এদের ধারালো নখ দিয়ে কংক্রিটের মতো শক্ত উইপোকার ঢিবি বা মৌচাক ভেঙে ফেলতে পারে। চোরা শিকারিরা এখন এদের থাবা ও পিত্তথলির জন্য শিকার করছে।

ক্লাউডেড লেপার্ড: জাদুকরি নকশার জন্য শিকার

ক্লাউডেড লেপার্ডের গায়ের সুন্দর নকশাই এদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। পোষা প্রাণী হিসেবে পাচার করা হয় এদের। বিলাসবহুল পোশাক বানাতে এদের চামড়া বিক্রি হয়। এমনকি এদের দাঁত, নখ ও হাড়কে বাঘের হাড় বলে ধোঁকা দিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে।

রাজধনেশ: জীববৈচিত্র্যের ব্যারোমিটার

রাজধনেশ পাখি বনের মগডালে বসে ফল খায় ও বীজ ছড়িয়ে দেয়। এদের বলা হয় জীববৈচিত্র্যের ব্যারোমিটার, কারণ একটি বনে এদের উপস্থিতি মানেই সেই বন গাছপালায় ভরা।

বনরুই বা প্যাঙ্গোলিন: সবচেয়ে বেশি পাচার হওয়া প্রাণী

প্যাঙ্গোলিনের ছানাদের আদর করে প্যাঙ্গোপাপ বলা হয়। এরা মায়ের লেজের ওপর চেপে বনে ঘুরে বেড়ায়। মাংস ও আঁশের লোভে এই নিরীহ প্রাণীটি সারা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পাচার হয়। বর্তমানে এরা চরম বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে।

এশিয়ান লেপার্ড ক্যাট: বন্য প্রাণী পাচারের সতর্কবার্তা

এশিয়ান লেপার্ড ক্যাট বন্য প্রাণী পাচারের ক্ষেত্রে সতর্কবার্তার মতো কাজ করে। এদের প্রচুর পাচার করা হয়। সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হলো, জঙ্গল থেকে এদের ধরে এনে সাধারণ গৃহপালিত বিড়ালের সঙ্গে সংকর করে বেঙ্গল ক্যাট বানানো হচ্ছে। গত বছর থাইল্যান্ডে দীর্ঘ ৩০ বছর পর এদের আবার দেখা মিলেছে।

সেরো: অর্ধেক ছাগল ও অর্ধেক হরিণের মতো দেখতে

সেরো লাজুক স্বভাবের প্রাণী, দেখতে অর্ধেক ছাগল ও অর্ধেক হরিণের মতো। মাঝারি আকারের কালো লোমওয়ালা এই স্তন্যপায়ী পাহাড়ি ও পাথুরে এলাকায় থাকতে পছন্দ করে। মাংস ও ছোট শিংয়ের জন্য এরা প্রায়ই শিকারিদের নিশানায় পরিণত হয়।

স্টাম্প-টেইলড ম্যাকাক: ছোট লেজের বানর

স্টাম্প-টেইলড ম্যাকাক একধরনের বানর, যাদের লেজ খুব ছোট ও লোমহীন। বনের মাটিতে পড়ে থাকা ফলমূল কুড়িয়ে খেয়েই এদের দিনের বেশির ভাগ সময় কাটে। ক্যামেরায় একটি মা ও ছানা ম্যাকাককে পড়ে থাকা গাছের গুঁড়ির ওপর বসে থাকতে দেখা গেছে।

গ্রে পিকক-ফিজেন্ট: ময়ূরের মতো দেখতে পাখি

গ্রে পিকক-ফিজেন্ট ময়ূরের মতো দেখতে পুরুষ ফিজেন্ট পাখি। এরা মাটিতে পড়ে থাকা শুকনো পাতার ওপর ডান্স ফ্লোর বানায় এবং নিজের পালকের উজ্জ্বল নকশাগুলো মেলে ধরে মেয়ে পাখিদের মন ভোলানোর চেষ্টা করে।

সূত্র: পপুলার সায়েন্স