প্রেমের প্রতিশ্রুতির ফাঁদে বিধবা নারী: অনশনে গেলে মারধর, উত্তেজনা ফরিদগঞ্জে
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নে এক বিধবা নারীর ওপর মারধর ও লাঞ্ছনার ঘটনায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে প্রেমের প্রতিশ্রুতির ফাঁদে চার বছর পার করার পর বিয়ের দাবিতে অনশনরত ওই নারীকে কেন্দ্র করে।
চার বছর ধরে চলা সম্পর্ক ও প্রতিশ্রুতির অভিযোগ
অভিযোগকারী নারী জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর শরীফ নামের এক যুবক তার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে এবং ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় চার বছর ধরে এই সম্পর্ক চলাকালে শরীফ তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়েছিলেন বলে তিনি দাবি করেন। এ সময় শরীফ তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নারী আরও অভিযোগ করেন, বিদেশে যাওয়ার আগে শরীফ তার কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নিয়েছিলেন, যা তিনি নিজের গহনা বিক্রি করে জোগাড় করেছিলেন। বিদেশে থাকাকালেও শরীফ নিয়মিত যোগাযোগ রেখে দেশে ফিরে তাকে ও তার দুটি সন্তানকে মেনে নিয়ে বিয়ে করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
অনশন ও মারধরের ঘটনা
সম্প্রতি দেশে ফিরে শরীফ তাকে বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে নিয়ে গেলেও হঠাৎ করে অন্যত্র বিয়ের চেষ্টা শুরু করেন বলে অভিযোগ ওই নারীর। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও শরীফ কোনো উদ্যোগ নেননি।
এরই প্রেক্ষিতে সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে শরীফের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশনে বসেন ওই নারী। তবে এ সময় শরীফের মা, বোন ও পরিবারের অপর এক নারী তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের এক পর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
অভিযোগ অস্বীকার ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
শরীফের মা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, "আমার ছেলে বিয়ে করলে করুক, এতে আমাদের কিছু বলার নেই। আমার স্বামীর সম্পত্তি আমার নামে, তাই আমার ঘরে কাউকে উঠতে দেব না।"
স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তফা জানান, কয়েকদিন আগে বিষয়টি নিয়ে উভয়পক্ষকে নিয়ে বসা হয়েছিল এবং ঈদের পর সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন শরীফ। কিন্তু পরে তিনি আর যোগাযোগ করেননি।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, এটি শুধুমাত্র পারিবারিক মীমাংসার বিষয় নয়, বরং এতে প্রতারণা ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে, যা আইনি তদন্তের দাবি রাখে।
পুলিশের হস্তক্ষেপ ও সমাধানের আশ্বাস
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ফরিদগঞ্জ থানার এএসআই রাশেদ মিত্র জানান, থানার ওসির সঙ্গে আলোচনা করে আগামী ২৫ মার্চ থানায় বসে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আপাতত অভিযোগকারী নারীকে তার বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনা সামাজিক ন্যায়বিচার ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছে স্থানীয় সম্প্রদায়।



