রাউজান বন্ধুসভার সহমর্মিতার ঈদ: ভাসমান শ্রমিক পরিবারের শিশুদের মুখে হাসি ফোটালো
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকায় কয়েকটি কলোনিতে ভাসমান বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন শতাধিক শ্রমিক পরিবার। এই পরিবারগুলোর সদস্যরা মূলত রিকশা, ভ্যান বা ভটভটি চালানো, অথবা দৈনিক মজুরির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাঁদের বেশিরভাগই নোয়াখালী, কুমিল্লা ও ভোলা জেলার বাসিন্দা হওয়ায় স্থানীয় না হওয়ার কারণে ঈদের সময় সরকারি বা বিত্তবানদের কাছ থেকে তেমন সহায়তা পান না। ফলে দিন আনে দিন খায় এমন এসব পরিবারে ঈদ এলে শিশু-কিশোরদের নতুন পোশাক জুটানো কঠিন হয়ে পড়ে অনেক অভিভাবকের জন্য।
বন্ধুসভার উদ্যোগে সহমর্মিতার ঈদ কর্মসূচি
এবার ঈদে এই অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে রাউজান বন্ধুসভা। ‘সহমর্মিতার ঈদ’ শীর্ষক বিশেষ কর্মসূচির আওতায় সদস্যদের নিজস্ব তহবিল থেকে সংগ্রহ করা অর্থ দিয়ে একটি ফান্ড গঠন করা হয়। এই ফান্ডের মাধ্যমে পরিবারগুলোর শিশুদের মধ্যে নতুন পোশাক বিতরণ করা হয়েছে, যা ঈদের দিনে তাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারকে সেমাই, চিনি, পায়েস, নুডলসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীও দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে উপহার বিতরণ ও ইফতার আয়োজন
১৬ মার্চ রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া কলেজ অডিটোরিয়ামে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব উপহার তুলে দেওয়া হয়। রাউজান বন্ধুসভার সভাপতি মুহাম্মদ জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রাহাতুল ইসলাম। প্রধান বক্তা ছিলেন রাউজান থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম। সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ও সহসভাপতি পিয়া বড়ুয়ার সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর প্রতিনিধি এস এম ইউসুফ উদ্দিন।
বন্ধুসভার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টা মোহাম্মদ বেলাল ও চিকিৎসক দিদারুল আলম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মুহাম্মদ শফি, নোয়াপাড়া কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্য শামসুল হক, মোহাম্মদ নুরুল আবসার, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম, নোয়াপাড়া কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুহাম্মদ এসকান্দর আলম, সাবেক কলেজ উপাধ্যক্ষ সৈয়দ উদ্দিন আহমেদ, চুয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান, কসমিক হাসপাতালের পরিচালক আজিজুল হক, সাবেক ছাত্রনেতা সাইফুল আজম ছোটন, পল্লী বিদ্যুত সমিতি-২–এর এজিএম মোহাম্মদ শহিদ উল্লাহ, বন্ধুসভার উপদেষ্টা আহমেদ সৈয়দ, রাউজান শিক্ষক সমিতির সদস্যসচিব নুর নবী, জেলা শিক্ষক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক জামাল শাহ, উত্তর গুজরা বায়তুল উলুম মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ নাসির, সাবেক ছাত্রনেতা মুহাম্মদ ইদ্রিস, আনোয়ার আজিম, প্রবাসী সাংবাদিক ওসমান চৌধুরী, রেজাউল করিম সিকদার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জাহিদুল করিম, পুলিশের এসআই মামুন ভূঁইয়া, পুলিশ সার্জেন্ট মাঈন উদ্দিন, রাউজান প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জাহেদুল আলম, সাবেক সভাপতি তৈয়ব চৌধুরী, শিক্ষক মাওলানা আনোয়ার হোসাইন শাওন, মাওলানা জয়নাল আবেদীন, মাহবুব আলম চৌধুরী, হাসনাত সুলতান, আরমান হোসাইন, মাওলানা আহমদ ছগির, হোসাইন রেজাউল হক প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শেষে সবাই একসঙ্গে ইফতার আয়োজনে অংশ নেন, যা সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও দৃঢ় করেছে। রাউজান বন্ধুসভার এই মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং সমাজসেবার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।



