রমজানে শিশুদের নামাজে উৎসাহিত করতে মিরপুরে ৩১৭ শিশুকে সাইকেল উপহার দিলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
নামাজে উৎসাহিত করতে ৩১৭ শিশুকে সাইকেল উপহার

রমজানে শিশুদের নামাজে উৎসাহিত করতে মিরপুরে ৩১৭ শিশুকে সাইকেল উপহার

পবিত্র রমজান মাসে শিশুদের মসজিদে গিয়ে জামাতের সাথে নামাজ আদায়ে উৎসাহিত করতে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এই কর্মসূচির আওতায় মাসজুড়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায় করায় মিরপুর এলাকার মোট ৩১৭ শিশুকে পুরস্কার হিসেবে নতুন সাইকেল প্রদান করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সাইকেল বিতরণ ও প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে শিশুদের হাতে এসব সাইকেল তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেন, ‘সাইকেল উপহারটি বড় বিষয় নয়, আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো ছোট ছোট শিশুদের নামাজের প্রতি অভ্যস্ত করা। এই বয়সে তারা যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য নামাজে অভ্যস্ত হয়ে যায়, তবে ভবিষ্যতে তারা আর নামাজ ছাড়বে না।’

তিনি আরও জানান, তার নির্বাচনী এলাকার চারটি ওয়ার্ডের ছয়টি মসজিদের মাধ্যমে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর আগে একটি পর্ব সম্পন্ন হয়েছে এবং শেষ ধাপে ২৪৫ শিশুকে সাইকেল প্রদান করা হলো। শিশুদের এই সুন্দর অভ্যাস শুধু রমজান মাসেই সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর ধরে রাখার জন্য তিনি উপস্থিত অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান।

সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠনের এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী কাজ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা এবং খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

ক্রীড়া খাতের উন্নয়নের বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, আগামী ৩০ মার্চ জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ক্রীড়া ভাতা প্রদান করা হবে। এছাড়া সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা চাঁদাবাজ, মাদক ও দখলদার মুক্ত সমাজ গড়তে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। এসব অপরাধে জড়িতদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হবে।’

এসময় তিনি গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কাটিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ও ধন্যবাদ

এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় মসজিদের ইমাম, খতিব, অভিভাবক এবং বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। শিশুদের এই সুন্দর আয়োজনে সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

এই উদ্যোগটি শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধ বিকাশে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয় সম্প্রদায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণে এটি আরও ফলপ্রসূ হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে উপস্থিতরা মত প্রকাশ করেন।