এভিয়েশন ও পর্যটনে ১০ নারী পেলেন এটিজেএফবি উইমেন্স আইকন অ্যাওয়ার্ড-২০২৬
এভিয়েশন-পর্যটনে ১০ নারী পেলেন এটিজেএফবি আইকন অ্যাওয়ার্ড

এভিয়েশন ও পর্যটন খাতে নারীদের অবদানের স্বীকৃতিতে বিশেষ সম্মাননা

বাংলাদেশের এভিয়েশন ও পর্যটন খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ১০ জন নারীকে এভিয়েশন ও ট্যুরিজম জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ (এটিজেএফবি) উইমেন্স আইকন অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ প্রদান করেছে। শনিবার (১৩ মার্চ) রাজধানীর অল কমিউনিটি ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

তৃতীয় আসরে সম্মানিত হলেন যারা

এভিয়েশন ও পর্যটন সাংবাদিকদের সংগঠন এটিজেএফবি-এর আয়োজনে এবার ছিল অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের তৃতীয় আসর। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে যারা সম্মাননা পেয়েছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:

  • পাইলট ক্যাটাগরি: এয়ার অ্যাস্ট্রার ফার্স্ট অফিসার সাজিদিনা সুলতানা সনি
  • কেবিন ক্রু ক্যাটাগরি: নভো এয়ারের হেড অব কেবিন সার্ভিস ফারজানা ইয়াসমিন
  • সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং ক্যাটাগরি: ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ফারহানা ইয়াসমিন
  • কাস্টমার সার্ভিস ক্যাটাগরি: ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মৌসুমি আক্তার
  • এভিয়েশন উদ্যোক্তা ক্যাটাগরি: বেঙ্গল এয়ারলিফট লিমিটেডের গ্রুপ চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মেহনাজ মান্নান
  • ইন্সট্রাক্টর ক্যাটাগরি: ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ম্যানেজার মুক্তা ওয়াহিদ
  • পাবলিক রিলেশন্স ক্যাটাগরি: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম

এছাড়াও ট্যুর গাইড ক্যাটাগরিতে রিভারাইন ট্যুরসের গাইড সুমাইয়া তাহমিম বুশরা, কালিনারি ট্যুরিজম ক্যাটাগরিতে ওয়েস্টিন ঢাকার শেফ আকসা ইকবাল এবং হসপিটালিটি অন্ট্রোপ্রনোয়র ক্যাটাগরিতে রয়াল আরসালান্সের স্বত্বাধিকারী ফারহানা রহমান সম্মানিত হয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে নারীদের ভূমিকার প্রশংসা

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, "নারীদের স্বীকৃতি দেওয়ার এটিজেএফবি’র উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বাংলাদেশের উন্নয়নে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার এ খাতগুলোকে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে কাজ করছে। বিএনপির ইশতেহারেও বিমান ও পর্যটন খাতের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সংযোগ বৃদ্ধি এবং পর্যটন সম্ভাবনাকে বিশ্বে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ অগ্রযাত্রায় নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক সংযোগে এভিয়েশন ও পর্যটন খাতের অবদান দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই খাতে নারীদের সাফল্য ও নেতৃত্ব দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতেও নারীরা এ খাতে আরও বেশি করে তাদের দক্ষতা ও মেধার স্বাক্ষর রাখবেন।

এটিজেএফবি-এর এই উদ্যোগটি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সাফল্যকেই স্বীকৃতি দেয়নি, বরং পুরো এভিয়েশন ও পর্যটন শিল্পে নারীদের অবদানকে সামনে এনেছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন এয়ারলাইন্স, ট্যুর অপারেটর এবং হসপিটালিটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা, যারা বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান।