নারী দিবসে বেগম খালেদা জিয়াসহ ৪৪ নারীর সম্মাননা
নারী শিক্ষা এবং গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় অসামান্য ভূমিকার জন্য ‘অদম্য নারী’ মরণোত্তর পুরস্কার পেয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রায়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে রোববার (৮ মার্চ) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের হাত থেকে এই সম্মাননা গ্রহণ করেন বেগম খালেদা জিয়ার নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
আট বিভাগ থেকে ৩৯ নারীর পুরস্কার প্রাপ্তি
এদিকে, দেশের আটটি বিভাগ থেকে মোট ৩৯ জন নারীকে ‘অদম্য নারী’ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন:
- খুলনা বিভাগ: ববিতা খাতুন
- চট্টগ্রাম বিভাগ: শমলা বেগম
- রংপুর বিভাগ: নুরবানু কবীর
- ময়মনসিংহ বিভাগ: নূরুন নাহার আক্তার
- ঢাকা বিভাগ: আফরোজা ইয়াসমিন
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিভাগ থেকেও বেশ কয়েকজন নারী পুরস্কার গ্রহণ করেছেন। ঢাকা বিভাগ থেকে আরিফা বেগম, মারুফা আক্তার, নাছরিন আক্তার, মুক্তা আক্তার এবং মোছা. আফরোজা ইয়াসমিন সম্মানিত হয়েছেন। রাজশাহী বিভাগ থেকে লতা-খাতুন, রিজু তামান্না, মোসা. রাশেদা বেগম, রাজিয়া খাতুন এবং সুমাইয়া ইসলাম পুরস্কার পেয়েছেন।
বিভাগভিত্তিক পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা
চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে আসমা আক্তার কনা, বেগম তাজকেরা চৌধুরী, বিলকিছ বেগম এবং শমলা বেগম পুরস্কৃত হয়েছেন। সিলেট বিভাগ থেকে কুলসুমা বেগম, মোছাম্মৎ আমিনা বেগম, মোছা. রহিমা বেগম, কাঞ্চন বেগম এবং রিফাত আরা রিফা সম্মাননা পেয়েছেন।
খুলনা বিভাগ থেকে তারানা তাবাচ্ছুম, মোছা. ববিতা খাতুন, লুৎফুন নেছা বেগম, শরিফা ইয়াসমিন এবং মোছা. রাজিয়া খাতুন পুরস্কার গ্রহণ করেছেন। রংপুর বিভাগ থেকে ফরিদা পারভীন, রিক্তা বানু, মোসা. রাশেদা বেগম, মোছা. পারভীন আক্তার এবং খন্দকার আবিদা সুলতানা রিয়া সম্মানিত হয়েছেন।
বরিশাল বিভাগ থেকে মোছা. নিলুফা ইয়াছমিন, নাহীদ রুমানা মিতু, দেলোয়ারা বেগম, সালমা আক্তার এবং রিতা ব্রহ্ম পুরস্কার পেয়েছেন। ময়মনসিংহ বিভাগ থেকে নুরুন নাহার বেগম, উম্মে রাফিবা জাহান, হাসনা হেনা বারী, নাসরীন বেগম এবং তাহমিদা সম্মাননা গ্রহণ করেছেন।
পুরস্কারের উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব
প্রতিটি নারীকে তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান এবং অদম্য মনোবলের জন্য এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই পুরস্কার প্রথা দেশের নারীদের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে, এই ধরনের স্বীকৃতি নারীর সংগ্রাম, নেতৃত্ব এবং অবদানের গল্পকে দেশের জনসাধারণের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এই পুরস্কার অনুষ্ঠানটি নারী শিক্ষা এবং গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এটি নারীদের অধিকার ও ক্ষমতায়নের প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতিরও একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
