নারী দিবসের প্রাক্কালে বাজেট বৃদ্ধির দাবি, নারী নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান জোরদারের আহ্বান
নারী দিবসের প্রাক্কালে বাজেট বৃদ্ধির দাবি, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান জোরদার

নারী দিবসের প্রাক্কালে বাজেট বৃদ্ধির জোরালো দাবি

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রাক্কালে সুশীল সমাজের সংগঠনগুলো নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, দক্ষতা উন্নয়ন সম্প্রসারণ করতে এবং আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সরকারের কাছে জাতীয় বাজেট বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে। শুক্রবার এই দাবি উঠে আসে একটি আলোচনা সভায়, যা নারী উন্নয়ন শক্তির প্রশিক্ষণ কক্ষে শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

বহু সংগঠনের যৌথ আয়োজন

“নারী নিরাপত্তা, দক্ষতা, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে জাতীয় বাজেট বৃদ্ধি করতে হবে” এই প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নারী উন্নয়ন শক্তি, ফোরাম ফর কালচার অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট, ইয়ং উইমেন ফর ডেভেলপমেন্ট, রাইটস অ্যান্ড ক্লাইমেট এবং ডোমেস্টিক ওয়ার্কার এমপ্লয়ার অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ।

বক্তাদের জোরালো বক্তব্য

নারী উন্নয়ন শক্তির নির্বাহী পরিচালক ও ডোমেস্টিক ওয়ার্কার এমপ্লয়ার অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সভাপতি ড. আফরোজা পারভিন মূল বক্তব্যে বলেন, নারী নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে নারী উন্নয়ন, দক্ষতা প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক সুরক্ষার জন্য সরকারি বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি অপরিহার্য।

ফোরাম ফর কালচার অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের সভাপতি সাহিদা ওয়াহাব বলেন, নারী অধিকার নিশ্চিত করা জাতীয় উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং এতে সরকার ও সুশীল সমাজের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

ইয়ং উইমেন ফর ডেভেলপমেন্ট, রাইটস অ্যান্ড ক্লাইমেটের নির্বাহী চেয়ারপারসন নুসরাত সুলতানা আফরোজ তরুণ নারী নেতৃত্ব শক্তিশালীকরণ এবং কারিগরি ও ডিজিটাল দক্ষতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীল কর্মসংস্থান সুযোগ সৃষ্টির গুরুত্বের উপর জোর দেন।

ডোমেস্টিক ওয়ার্কার এমপ্লয়ার অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের মহাসচিব নাসিমা খান অনানুষ্ঠানিক খাত, বিশেষ করে গৃহকর্মীদের জন্য আইনি সুরক্ষা, ন্যায্য মজুরি ও সামাজিক নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের সদস্য ড. সুলতান মুহাম্মদ রাজ্জাক নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিত করা এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণের সুযোগ ও বাজার প্রবেশাধিকার উন্নত করার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন।

অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও শ্রমিক নেতা আবুল হোসেন, শিলিডের তাসনুভা হক, এনডিডব্লিউডব্লিউইউর মুরশিদা আখতার, বিএমডব্লিউএফের স্বপ্না আক্তার, বিএইচডব্লিউএফের অ্যাডভোকেট লাইজু আক্তার এবং বাংলাদেশ স্বাস্থ্য সেবা কর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশা আক্তার।

দশ দফা দাবি পেশ

আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীরা নারী নিরাপত্তা, অধিকার ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জোরদার করতে সরকারের কাছে একটি দশ দফা দাবি পেশ করেন।

  1. নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা।
  2. নারী নিরাপত্তা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের জন্য জাতীয় বাজেট বৃদ্ধি করা।
  3. প্রযুক্তি, ডিজিটাল দক্ষতা ও কারিগরি প্রশিক্ষণে নারীদের প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ করা।
  4. নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, বাজার সুযোগ ও ব্যবসায়িক সহায়তা প্রদান করা।
  5. কর্মস্থলে যৌন হয়রানি ও সহিংসতা রোধে শক্তিশালী নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
  6. গৃহকর্মীসহ অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত নারীদের আইনি স্বীকৃতি ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
  7. নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবহন ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা।
  8. গ্রামীণ নারীদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সুযোগ সম্প্রসারণ করা।
  9. নারী ও কিশোরীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টি নিশ্চিত করা।
  10. সকল স্তরে নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন যে সরকার ও সংশ্লিষ্ট অংশীজন নারী নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।