ইসলামিক শরিয়াহ: একজনের রোজা আরেকজন রাখার অনুমতি নেই
ইসলামিক জীবনধারায় রোজা পালন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, একজন ব্যক্তি কি আরেকজনের পক্ষে রোজা রাখতে পারেন? ইসলামিক বিধান অনুযায়ী, এর উত্তর স্পষ্ট: একজনের অনাদায়ী নামাজ বা রোজা আরেকজন আদায় করতে পারে না।
হাদিসের উদ্ধৃতি ও শরিয়াহর দৃষ্টিভঙ্গি
আবদুল্লাহ ইবন ওমর (রা.)-কে অন্যের পক্ষ থেকে রোজা রাখা বা নামাজ আদায় করার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, "কেউ অন্যের পক্ষ থেকে রোজা রাখবে না এবং অন্যের পক্ষ থেকে নামাজ পড়বে না"। এটি মুআত্তা ইমাম মালেকের ৯৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত হয়েছে।
এই বিধান মেনে, যারা রোজা রাখতে অক্ষম, যেমন দুর্বল বৃদ্ধ বা দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থ ব্যক্তি, তাদের জন্য বিকল্প পথ হলো ফিদিয়া আদায়। ফিদিয়া হলো প্রতিটি রোজার বদলে একজন মিসকিনকে দুই বেলা পেট ভরে খাবার বা তার মূল্য দান করা।
ফিদিয়ার বিধান ও প্রয়োগ
হজরত সায়ীদ ইবনে মুসায়্যিব (রহ.) এর মতে, রোজা রাখা যাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর, তারা ফিদিয়া দান করতে পারেন। এটি বিশেষ করে রোজা রাখতে অক্ষম বৃদ্ধদের জন্য প্রযোজ্য, যেমন মুসান্নাফে আবদুর রাযযাকের হাদিস ৭৫৮৫ এবং অন্যান্য গ্রন্থে উল্লেখিত হয়েছে।
যাদের জন্য রোজার পরিবর্তে ফিদিয়া দেওয়ার অনুমতি রয়েছে, তারা রমজান মাসের শুরুতেই পুরো মাসের ফিদিয়া দিয়ে দিতে পারেন। এটি আদ্দুররুল মুখতার ও আলবাহরুর রায়েক গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
বিশেষ অবস্থায় রোজা ভাঙার নিয়ম
দুর্বল বৃদ্ধ ও এমন অসুস্থ ব্যক্তি ছাড়াও, যাদের রোজা ভাঙা জায়েজ, যেমন মুসাফির, গর্ভবতী নারী ও শিশুকে স্তন্যদানকারিণী, তারা রোজা না রাখলে ফিদিয়া দেবেন না; বরং পরে কাজা করবেন।
ওযরের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে কাজা বা ফিদিয়া কিছুই ওয়াজিব হয় না। তবে ওযর শেষ হওয়ার পর, যেমন মুসাফিরের মুকিম হওয়া বা গর্ভবতীর সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর, যদি মৃত্যু ঘটে, তবে সে সময়ের জন্য কাজা জিম্মায় আসে। কাজা না করলে ফিদিয়া প্রদানের ওসিয়ত করতে হবে, যা আদ্দুররুল মুখতার ও কিতাবুল হুজ্জাহ আলা আহলিল মাদীনাহ গ্রন্থে উল্লেখিত।
এই বিধানগুলো ইসলামিক জীবনযাপনে রোজা ও ফিদিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে, যা মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করে।
