ইসলামিক ফাউন্ডেশন নির্ধারণ করেছে চলতি বছরের সাদাকাতুল ফিতরার হার
ইসলামিক ফাউন্ডেশন নির্ধারণ করেছে ফিতরার হার

ইসলামিক ফাউন্ডেশন ঘোষণা করেছে চলতি বছরের ফিতরার হার

ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১৪৪৭ হিজরি সনের রমজান মাসের জন্য সাদাকাতুল ফিতরার হার নির্ধারণ করেছে। এবার জনপ্রতি সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০৫ টাকা এবং সর্বনিম্ন ১১০ টাকা ফিতরা আদায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ শাখা থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

জাতীয় কমিটির সভায় ফিতরা হার নির্ধারণ

বুধবার দুপুরে জাতীয় সাদাকাতুল ফিতরা নির্ধারণ কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভাপতি ও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মাওলানা আবদুল মালেক। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ফিতরার হার ঘোষণা করা হয় এবং ইসলামি শরিয়াহ মতে আদায়ের পদ্ধতি স্পষ্ট করা হয়।

বিভিন্ন পণ্যের মাধ্যমে ফিতরা আদায়ের সুযোগ

সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মুসলমানরা ইসলামি শরিয়াহ মেনে আটা, যব, কিশমিশ, খেজুর বা পনিরের মতো পণ্যের যেকোনো একটি দ্বারা ফিতরা আদায় করতে পারবেন। প্রতিটি পণ্যের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ ও মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে:

  • গম বা আটা: অর্ধ সা বা ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম, বাজার মূল্য ১১০ টাকা।
  • যব: এক সা বা ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম, বাজার মূল্য ৫৯৫ টাকা।
  • খেজুর: এক সা বা ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম, বাজার মূল্য ২,৪৭৫ টাকা।
  • কিশমিশ: এক সা বা ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম, বাজার মূল্য ২,৬৪০ টাকা।
  • পনির: এক সা বা ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম, বাজার মূল্য ২,৮০৫ টাকা।

এই হারগুলি দেশের সব বিভাগ থেকে সংগৃহীত আটা, যব, খেজুর, কিশমিশ ও পনিরের বাজার মূল্যের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, মুসলমানরা নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী এসব পণ্যের যেকোনো একটি পণ্য বা এর বাজার মূল্য দ্বারা সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে পারবেন।

স্থানীয় বাজার মূল্যের তারতম্য বিবেচনা

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই পণ্যগুলোর স্থানীয় খুচরা বাজার মূল্যের তারতম্য রয়েছে। তদনুযায়ী, স্থানীয় মূল্যে পরিশোধ করলেও ফিতরা আদায় হবে বলে স্পষ্ট করা হয়েছে। এই নমনীয়তা নিশ্চিত করে যে সবাই তাদের আর্থিক অবস্থান অনুসারে ফিতরা প্রদান করতে সক্ষম হবেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ

সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বোর্ড অব গভর্নরস–এর গভর্নর মাওলানা মাহফুজুল হক, দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, মুহাদ্দিস ওয়ালিয়ুর রহমান খান, মুফাসসির মাওলানা মো. আবু সালেহ পাটোয়ারী, কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া কামিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা আবুল কাশেম মো. ফজলুল হক, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, পেশ ইমাম মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী এবং রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মহিউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি এই সিদ্ধান্তের গুরুত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে।