চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক আন্দরকিল্লা মসজিদে হাজারো রোজাদারের গণ-ইফতার
চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদে গতকাল সোমবার বিকেলে হাজারো রোজাদার একসঙ্গে ইফতার করেছেন। আসরের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পর মসজিদ প্রাঙ্গণে রোজাদারদের ভিড় জমে ওঠে, যেখানে স্বেচ্ছাসেবকরা ইফতার আয়োজনে ব্যস্ত ছিলেন।
স্বেচ্ছাসেবকদের নিবেদিত সেবা
আবুল কালাম নামের এক স্বেচ্ছাসেবক ১৭ বছর ধরে এই মসজিদে ইফতার আয়োজনে কাজ করছেন। তিনি বলেন, "সারা বছর যেখানেই থাকি না কেন, রমজানে এখানে হাজির হই।" এবার স্বেচ্ছাসেবকদের ইউনিফরম পরা কালামের মতো আরও অন্তত আটজন স্বেচ্ছাসেবক ইফতার বণ্টনে সহায়তা করছেন।
গণ-ইফতারের ঐতিহ্য
আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ ১৬৬৭ খ্রিষ্টাব্দে মোগল আমলে তৈরি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনা। দিল্লি জামে মসজিদের আদলে নির্মিত এই মসজিদে ২৫ বছর ধরে গণ-ইফতারের আয়োজন করা হচ্ছে। মসজিদের খতিব সৈয়দ মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন তাহের জাবেরী আল-মাদানীর উদ্যোগে ২০০১ সাল থেকে বড় পরিসরে এই আয়োজন শুরু হয়।
মানুষের দানে ইফতার আয়োজন
মসজিদের খতিবের সহকারী হাসান মুরাদ জানান, ইফতার আয়োজনে মসজিদ কর্তৃপক্ষের এক টাকাও খরচ হয় না। সব উপকরণ মানুষের দান থেকে আসে। তিনি বলেন, "প্রচুর মানুষ আমাদের সাহায্য করেন। কেউ ছোলা, কেউ তেল, বেসন বা ডাল পাঠান। তবে কেউই নিজেদের নাম প্রকাশ করতে চান না।"
গতকালের ইফতারিতে ছিল ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, জিলাপি, চপ আর মুড়ি। একটি বেসরকারি কোম্পানির প্রতিনিধি মো. শহীদুল আলম প্রতিবছর রোজায় শরবত বানান এই মসজিদে। তিনি বলেন, "আজ ২০ কেজি চিনি, ১৮ বোতল রুহআফজা, ১ কেজি লবণ, ৪০ কেজি বরফ দিয়ে শরবত তৈরি করেছি।"
সব শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণ
ইফতার আয়োজনে সিকিউরিটি গার্ড, ব্যাংকার, ব্যবসায়ী, রিকশাচালক, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে অসহায় দুস্থ লোকজন অংশ নেন। জয়নাল আবেদিন নামের এক দিনমজুর রোজার সময় মসজিদে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করেন। তিনি বলেন, "এখানে কামাই করতে আসি না। রোজাদারেরা তৃপ্তি করে খান—এটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া।"
আছদগঞ্জের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব শামসুল আলম বলেন, "প্রতি রোজায় একবার এখানে আসি। সবার সঙ্গে ইফতার করার আনন্দই আলাদা। শত শত রোজাদার আল্লাহর দরবারে হাত তুলেছেন।"
মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, এবার পয়লা রোজা থেকে তিন হাজারের বেশি মানুষ ইফতার আয়োজনে শামিল হয়েছেন। গত রোববার সাড়ে তিন হাজারের মতো রোজাদার এসেছিলেন। এই গণ-ইফতার চট্টগ্রামের রমজান ঐতিহ্যের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
