ইরানের প্রতিশোধের ষড়যন্ত্রে পাকিস্তানি নাগরিক দোষী সাব্যস্ত
আসিফ রাজা মার্চেন্ট নামের এক পাকিস্তানি নাগরিক ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডসের কমান্ডার কাসেম সোলেইমানি হত্যার প্রতিশোধ নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বা অন্য কর্মকর্তাদের হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের একটি ফেডারেল আদালতে চলা বিচারে প্রসিকিউটররা দাবি করেছেন, মার্চেন্টের সঙ্গে ইরানের যোগসূত্র রয়েছে এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রে একজন ভাড়াটে খুনি খোঁজার চেষ্টা করেছিলেন।
বিচারে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
গত বুধবার বিচারের সময় আসিফ রাজা মার্চেন্ট সাক্ষ্য দেন যে, তেহরানে থাকা তাঁর পরিবারকে রেভোল্যুশনারি গার্ডসের হাত থেকে বাঁচাতে তাঁকে এই ষড়যন্ত্রে বাধ্য করা হয়েছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তিনি ভেবেছিলেন কেউ খুন হওয়ার আগেই তিনি ধরা পড়ে যাবেন। মার্চেন্ট জানান, তাঁকে নির্দিষ্ট কাউকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়নি, তবে তাঁর ইরানি যোগাযোগকারী এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনজনের নাম উল্লেখ করেছিলেন—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও জাতিসংঘে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি।
অভিযোগ প্রমাণিত, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সম্ভাবনা
প্রসিকিউটরদের এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, আসিফ মার্চেন্টের বিরুদ্ধে আনা দুই অভিযোগ—আন্তদেশীয় সন্ত্রাসবাদ এবং ভাড়ায় খুনের ষড়যন্ত্র—প্রমাণিত হওয়ায় ভবিষ্যতে নির্ধারিত তারিখে তাঁর দণ্ড ঘোষণা করা হবে। তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তারা আগেই বলেছিলেন, মার্চেন্টের সঙ্গে 'ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক' রয়েছে এবং এই ষড়যন্ত্রকে 'ইরানি শাসনের চিরাচরিত কৌশল' হিসেবে দাবি করেছেন।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে এই বিচার
মার্চেন্টের এই বিচার এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর আগ্রাসন চালাচ্ছে, যাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বাগদাদে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের বিদেশে সামরিক অভিযানের প্রধান সোলেইমানি নিহত হন, এবং ইরানি কর্মকর্তারা বারবার এই হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার শপথ নিয়েছেন। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য তেহরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নস্যাৎ করে দেওয়া, তবে তারা আগ্রাসন চালিয়ে দেশটির সরকারকে অনেকটা নেতৃত্বহীন করে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন ইরানের 'নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ' দাবি করছেন।
গ্রেপ্তার ও বিচার প্রক্রিয়া
২০২৪ সালের ১২ জুলাই মার্চেন্ট যখন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার পরিকল্পনা করছিলেন, তখন তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার পর তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এই মামলা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ ও ইরান-মার্কিন উত্তেজনার একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে।
