রাশান কমেডিয়ানদের ভুয়া সাক্ষাৎকারে বোকা বনে গেলেন ইরানের রাজতন্ত্রী নেতা রেজা পাহলভি
রাশান দুই কমেডিয়ান ভোভান ও লেক্সাস একটি ভুয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের রাজতন্ত্রী নেতা রেজা পাহলভিকে বোকা বানিয়েছেন। তারা হিটলারের ছদ্মবেশ ব্যবহার করে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্ৎজের উপদেষ্টা হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেন এবং পাহলভিকে বিশ্বাস করান যে জার্মানি ইরানের রাজধানী তেহরানে বোমা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ভুয়া পরিচয়ে সাক্ষাৎকার
ভোভান ও লেক্সাস জুম ভিডিও কলে রেজা পাহলভির সঙ্গে কথা বলেন। একজন কমেডিয়ান নিজেকে ‘আডলফ’ বলে পরিচয় দিয়ে নাৎসি নেতা হিটলারের মতো পোশাক পরিধান করেন। তিনি পাহলভিকে বলেন, জার্মান গোয়েন্দা সংস্থা তেহরানে বোমা হামলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
এই তথ্যের জবাবে পাহলভি বলেন, ‘ইরানের শাসনের বিরুদ্ধে হামলায় যত বেশি দেশ একজোট হবে, ততই ভালো। এই অভিযানে আরও মানুষ যোগ দিলে আমরা তা স্বাগত জানাই।’ তিনি আরও যোগ করেন যে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে দুর্বল করা জরুরি এবং ‘আইআরজিসিকে নিরস্ত করা দরকার। তাহলে ইরানের মানুষ আবার রাস্তায় নামতে পারবে এবং সরকারকে উৎখাত করতে পারবে।’
ব্যক্তিগত সংযোগের দাবি
ভিডিও কলে হিটলারের ছদ্মবেশে থাকা কমেডিয়ান দাবি করেন যে তার দাদা পাহলভির বাবাকে চিনতেন এবং চল্লিশের দশকে জার্মান সেনাবাহিনীতে কাজ করে তেহরানে একজন এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাহলভি এই দাবির প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘এটা খুবই আকর্ষণীয়। জানা ভালো লাগল।’
সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে ইসরায়েলের বোমা হামলার বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে পাহলভির উপদেষ্টা জাস্টিন ফোরসাইথ তাকে ফোনকলের জন্য ভিডিও থেকে সরিয়ে নেন। এই ঘটনার পর থেকে রেজা পাহলভি প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।
কমেডিয়ান জুটির পূর্বের কার্যক্রম
ভোভান ও লেক্সাস ২০১১ সাল থেকে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে ভুয়া ফোনকল করে আলোচনায় এসেছেন। তাদের পূর্বের শিকারের তালিকায় রয়েছেন সাবেক সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভ, প্রয়াত মার্কিন সিনেটর জন ম্যাককেইন এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেসেপ তাইয়েপ এরদোগান।
তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তারা রাশান গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা পেয়ে থাকেন। তবে তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন যে তারা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে নিয়ে এমন মজা করবেন না। তাদের মতে, ‘আমরা এমন কিছু করতে চাই না যা রাশিয়ার শত্রুদের সাহায্য করবে।’
এই ঘটনা ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভুয়া সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে পাহলভির দেওয়া মন্তব্যগুলো ইরানের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
