চট্টগ্রামে স্মার্ট গ্রুপ চেয়ারম্যানের বাসায় গুলি: পুলিশের অভিযানে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ব্যর্থ
চট্টগ্রামে স্মার্ট গ্রুপ চেয়ারম্যানের বাসায় গুলি, পুলিশ ব্যর্থ

চট্টগ্রামে স্মার্ট গ্রুপ চেয়ারম্যানের বাসায় গুলি: পুলিশের অভিযানে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ব্যর্থ

চট্টগ্রাম নগরের চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাসায় লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে তিন সন্ত্রাসী। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে এই ঘটনা ঘটে, যেখানে বাসার জানালার কাচ ভেঙে যায়। পুলিশের পাঁচ সদস্য পাহারায় থাকা সত্ত্বেও সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়।

পুলিশের অভিযান ও চ্যালেঞ্জ

ঘটনার পর পুলিশ 'এস ড্রাইভ' নামে বিশেষ অভিযান চালালেও ছয় দিনে অস্ত্রধারী কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, মাঠপর্যায়ে পুলিশের সোর্স দুর্বল হয়ে পড়া এবং তথ্যপ্রযুক্তিতে সন্ত্রাসীদের এগিয়ে থাকায় তাদের ধরতে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের সাবেক সভাপতি মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সোর্স নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে হবে। সন্ত্রাসীদের পেছনে রাজনৈতিক আশ্রয় থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।"

সন্ত্রাসীদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য

পুলিশের দাবি, কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারীরা এই ঘটনায় জড়িত। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একজন সন্ত্রাসী দুই হাতে দুটি পিস্তল থেকে গুলি ছুড়ছে, অন্যদের হাতে সাবমেশিনগান, চায়নিজ রাইফেল ও শটগান ছিল। মোস্তাফিজুর রহমান দাবি করেন, চাঁদা আদায়ের জন্যই গুলি চালানো হয়।

নগরবাসীর উদ্বেগ ও পুলিশের বক্তব্য

সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "আমরা প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকি। আবার কখন কী হয়ে যায়।" তবে নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ দাবি করেন, "অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। নগরবাসীর আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।"

অভিযানের ফলাফল ও অন্যান্য ঘটনা

পুলিশের বিশেষ অভিযানে জুয়াড়ি, কিশোর গ্যাং সদস্য ও মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করা হলেও গুলি করা সন্ত্রাসীদের কাউকে ধরা যায়নি। গত পাঁচ দিনে ২৫১ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। এদিকে, বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলী পুলিশের দাবি অস্বীকার করে বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ইসতিয়াক হাসান তার সহযোগী নন, বরং ২০২৩ সালে তার বাড়িতে হামলার আসামি।

এর আগে গত বছরের নভেম্বরে চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর জনসংযোগকালে গুলি করে সরোয়ার হোসেনকে হত্যা করা হয়, যেখানে প্রশিক্ষিত শুটার জড়িত বলে ধারণা পুলিশের। নিহতের ভাই আজিজ উদ্দিন অভিযোগ করেন, চার মাস পরও অস্ত্রধারীকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।