খুলনায় শ্রমিক নেতা মাসুম বিল্লাহর নৃশংস হত্যা: 'বি কোম্পানি'র কিলারদের গ্রেপ্তার
খুলনায় শ্রমিক নেতা হত্যা: 'বি কোম্পানি'র কিলার গ্রেপ্তার

খুলনায় শ্রমিক নেতার নির্মম হত্যাকাণ্ড: 'বি কোম্পানি'র আট কিলারের ভয়াবহ পরিকল্পনা

খুলনা নগরীতে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে এলাকা। রূপসা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মাসুম বিল্লাহকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অস্ত্রসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর 'বি কোম্পানি'র সদস্য অশোক ঘোষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যা মিশনের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছেন, যা সমাজে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।

হত্যার নেপথ্যে আট কিলারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা

গ্রেপ্তার অশোক ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, মাসুম বিল্লাহ হত্যা মিশনে 'বি কোম্পানি'র আটজন কিলার অংশ নিয়েছিল। তারা তিনটি গ্রুপে ভাগ হয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে, যেখানে প্রতিটি কিলারকে অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) তাজুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের পর পালানোর সময় অশোক ঘোষকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে রাতে অভিযান চালিয়ে জাভেদ নামে আরেকজনকে আটক করা হয়েছে।

ঘটনার বর্ণনায় প্রত্যক্ষদর্শীদের শোকাহত স্মৃতি

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, বুধবার রাতে মাসুম বিল্লাহ পিকচার প্যালেস মোড়ে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ কয়েকজন সন্ত্রাসী তাকে ধাওয়া দিলে তিনি দৌড়ে বাটা শোরুমে ঢুকে পড়েন। সন্ত্রাসীরা পিছু নিয়ে দোকানের ভেতর ঢুকে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ফেলে এবং পরে পরপর তিনটি গুলি করে হত্যা নিশ্চিত করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। বাটা শোরুমের ম্যানেজার বলেন, "দোকানে তখন ক্রেতাদের ভিড় ছিল। হঠাৎ এক ব্যক্তি দৌড়ে দোকানে ঢোকার পর কয়েকজন যুবক তাকে অনুসরণ করে ভেতরে ঢুকে হামলা চালায়। আতঙ্কে কর্মচারী ও ক্রেতারা যে যার মতো নিরাপদ স্থানে সরে যান।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের তদন্তে উঠে আসা ভয়াবহ তথ্য

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে তিনটি গ্রুপ সমন্বিতভাবে কাজ করে। একটি গ্রুপের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল, আরেকটি গ্রুপ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলায় অংশ নেয় এবং তৃতীয় গ্রুপের দায়িত্ব ছিল হামলাকারীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া। খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবীর হোসেন জানান, নিহত মাসুম বিল্লাহর শরীরে তিনটি গুলির আঘাত এবং একাধিক ধারালো অস্ত্রের ক্ষত পাওয়া গেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গ্রেপ্তার অশোক একজন পেশাদার খুনি এবং তিনি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, তবে তদন্তের স্বার্থে সেগুলো এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না।

পরিবারের মর্মান্তিক বেদনা ও বিচারের দাবি

বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মাসুম বিল্লাহর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহতের ছেলে রেজওয়ান হোসাইন মিনা বলেন, "আমার বাবার সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল বলে আমরা জানি না। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।" প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। পুলিশ গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং অন্য অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।