নারায়ণগঞ্জে 'কিলার বাবু' নামে পরিচিত সন্ত্রাসী নেতা ছুরিকাঘাতে নিহত
নারায়ণগঞ্জে 'কিলার বাবু' নামে সন্ত্রাসী নেতা নিহত

নারায়ণগঞ্জে 'কিলার বাবু' নামে পরিচিত সন্ত্রাসী নেতা ছুরিকাঘাতে নিহত

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও ন্যাড়া বাহিনীর প্রধান রিয়াজ উদ্দিন বাবু ওরফে কিলার বাবু ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ভোররাত ৪টায় ফতুল্লার পঞ্চবটি মোড়ে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই সময় লিটন নামে তার আরেক সহযোগী আহত হন। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় জানার চেষ্টা করছে।

নিহতের পরিচয় ও অতীত কর্মকাণ্ড

নিহত রিয়াজ উদ্দিন বাবু ওরফে কিলার বাবু (৪০) ফতুল্লার লালপুর পৌষাপুকুরপাড় এলাকার মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি হাসিনা নামে এক কিশোরীকে ১৪ টুকরো করে হত্যার ঘটনায় আলোচনায় আসেন এবং এরপর 'কিলার বাবু' হিসেবে পরিচিতি পান। দীর্ঘ দিনের অভিযোগ রয়েছে যে, কিলার বাবুর গড়ে তোলা নাউড়া বা ন্যাড়া বাহিনী ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের পঞ্চবটী বন বিভাগ থেকে লোহার মার্কেট পর্যন্ত এলাকায় ছিনতাই করত।

তার বিরুদ্ধে পাঁচটি হত্যা, ছিনতাইসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সময় হামলার ঘটনায় একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি ফতুল্লা মডেল থানার তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ছিলেন।

ঘটনার বিবরণ ও পুলিশের তদন্ত

ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিরাজ হোসেন বলেন, "ভোর রাত ৪টায় পঞ্চবটি মোড়ের কাছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কে কে বা কারা বাবু ও লিটনকে কুপিয়েছে তা জানতে পারিনি। তবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুজনকে নেওয়ার পর বাবু মারা গেছে। লিটন চিকিৎসাধীন রয়েছে। কারা তাদের কুপিয়েছে তা জানার চেষ্টা চলছে।"

তিনি আরও জানান, আহত বাবু কিছুটা সুস্থ হলে এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের নাম পরিচয় জানা যাবে। পুলিশ ঘটনাস্থল তদন্ত করে প্রমাণ সংগ্রহ করছে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কিলার বাবু এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন এবং তার মৃত্যুতে এলাকায় শান্তি ফিরতে পারে বলে আশা করছেন। তবে পুলিশ সতর্ক করে দিয়েছে যে, ঘটনার পেছনে প্রতিশোধমূলক হামলা বা গ্যাং যুদ্ধের সম্ভাবনা রয়েছে, যা আরও সহিংসতা ডেকে আনতে পারে।

এদিকে, নিহতের পরিবার ও সহযোগীরা পুলিশের কাছে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, কিলার বাবু অতীত অপরাধের জন্য দায়ী হলেও তার হত্যাকাণ্ডের তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন হওয়া উচিত। পুলিশ জানিয়েছে, তারা সকল প্রমাণ পরীক্ষা করছে এবং শীঘ্রই ঘটনার রহস্য উন্মোচন করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেছে।