নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আধিপত্য বিরোধে কুপিয়ে নিহত কিলার বাবু, সহযোগী গুরুতর আহত
ফতুল্লায় আধিপত্য বিরোধে কিলার বাবু নিহত, সহযোগী আহত

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আধিপত্য বিরোধে কুপিয়ে নিহত কিলার বাবু

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মারামারিতে রিয়াজ উদ্দিন বাবু ওরফে কিলার বাবু নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। একই ঘটনায় তার সহযোগী লিটন গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে পঞ্চবটি এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহত ও আহতের পরিচয়

নিহত রিয়াজ উদ্দিন বাবু ফতুল্লার শান্তিনগর বাজার এলাকার হাফিজ উদ্দিনের ছেলে হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি কিলার বাবু নামে এলাকায় কুখ্যাত ছিলেন। আহত ব্যক্তি লিটন ফতুল্লার লালপুর এলাকার কাদের মিস্ত্রির ছেলে। তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, যেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

ঘটনার পটভূমি ও বিবরণ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ফতুল্লার পঞ্চবটি এলাকায় রাস্তার পাশের কিছু দোকান দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কিলার বাবু গ্রুপ ও নাঈম গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার ভোরে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র মারামারি সংঘটিত হয়। সংঘর্ষের সময় প্রতিপক্ষের লোকজনের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কিলার বাবু ও লিটন গুরুতরভাবে জখম হন।

আহতদের তাদের অন্য সহযোগীরা প্রথমে নারায়ণগঞ্জের খানপুর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক রিয়াজ উদ্দিন বাবুকে মৃত ঘোষণা করেন এবং লিটনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের অপরাধমূলক ইতিহাস

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, নিহত রিয়াজ উদ্দিন বাবু ‘ন্যাড়া বাহিনী’ নামে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের নেতৃত্ব দিতেন এবং ‘কিলার বাবু’ নামে কুখ্যাত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে ফতুল্লা মডেল থানায় একাধিক মামলা দায়ের রয়েছে, যা তার অপরাধমূলক কার্যক্রমের সাক্ষ্য বহন করে।

পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আব্দুল মান্নান ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, “মূলত আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজনের সঙ্গে বিরোধ ছিল। সম্প্রতি খাস জায়গায় বেশ কিছু দোকান বসিয়ে ভাড়া ওঠানো নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে বাবুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত বাবুর বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। আমরা এ ঘটনায় তদন্ত চালাচ্ছি এবং তদন্ত শেষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ ও সাক্ষী সন্ধানের কাজ চলছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, আধিপত্য বিস্তারের এ সংঘাত আরও সহিংসতা ডেকে আনতে পারে, তাই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।