খুলনায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত শ্রমিক নেতা মাসুম বিল্লাহ, পুলিশের আটক এক
খুলনা মহানগরীর ডাকবাংলা মোড়ে রূপসা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মাসুম বিল্লাহকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (০৪ মার্চ) রাত ৯টার দিকে ডাকবাংলা মোড়ের বাটা দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তার লাশ খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে খুলনায় সন্ত্রাসী হামলায় পাঁচ জন নিহত হলেন।
নিহতের পরিচয় ও পূর্বশত্রুতার ইঙ্গিত
নিহত মাসুম বিল্লাহ রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের মৃত মিনহাজ উদ্দীন মুন্সীর ছেলে ও নৈহাটি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা কামালের ভাই। তিনি রূপসা উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক ছিলেন। পুলিশ জানায়, পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। নিহত মাসুম বিল্লাহ ২০২০ সালের ৩০ জুলাই র্যাবের অভিযানে নিহত নৈহাটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা কামালের ভাই।
হামলার বিস্তারিত ও পুলিশের তৎপরতা
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত ৯টার দিকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে ডাকবাংলা মোড়ে যান মাসুম বিল্লাহ। এ সময় ছয়-সাত জন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে গুলি করা হয়। গুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় অশোক ঘোষকে আটক করে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মাসুমকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনার পর গুলি বর্ষণকারী সন্দেহে অশোক ঘোষকে বিদেশি পিস্তলসহ আটক করেছে পুলিশ। খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, 'পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল বলেই ঘটনার পরই একজন অস্ত্রধারীকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও গ্রেফতার করা হবে।'
পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ
খুলনা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, 'এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাকে হত্যার জন্য একটি শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপের ছয়-সাত জনকে ভাড়া করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গুলি করে তাকে হত্যা করে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে এবং দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।'
এই ঘটনা খুলনা অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে চলা সন্ত্রাসী কার্যক্রমের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
