চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পাহাড়ে গলাকাটা কন্যাশিশু উদ্ধার, হত্যাচেষ্টার সন্দেহ
সীতাকুণ্ডে পাহাড়ে গলাকাটা শিশু উদ্ধার, হত্যাচেষ্টার সন্দেহ

সীতাকুণ্ডের পাহাড়ে গলাকাটা কন্যাশিশু উদ্ধার: হত্যাচেষ্টার তদন্ত চলছে

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌর সদরের বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের অভ্যন্তরে এক দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে গলায় ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত এক কন্যাশিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। আজ রোববার সকাল ১০টার দিকে ইকোপার্কের ভেতরের চন্দ্রনাথ মন্দির সড়ক সংস্কারের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা শিশুটিকে এই ভয়াবহ অবস্থায় আবিষ্কার করেন।

শ্রমিকদের তৎপরতায় জীবন রক্ষা

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টার দিকে বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের ভেতরে অবস্থিত সহস্রধারা ঝরনার প্রায় ৫০০ মিটার উত্তরে এক পাহাড়ি পথের ধারে শিশুটি গলাকাটা অবস্থায় পড়ে ছিল। এ সময় তার গলা থেকে রক্ত ঝরছিল। সড়ক সংস্কারের কাজে থাকা শ্রমিকরা শিশুটিকে আহত অবস্থায় দেখে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। তাঁরা নিজেদের পরনের কাপড় দিয়ে শিশুর গলা পেঁচিয়ে রক্তপাত বন্ধ করার চেষ্টা করেন এবং তাকে পাহাড় থেকে নামিয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেলে স্থানান্তর

খবর পেয়ে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের একটি দল বেলা দেড়টার দিকে হাসপাতালে পৌঁছে শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শিশুটির অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে এবং সে এখন কথা বলতে সক্ষম হচ্ছে। তবে প্রাথমিকভাবে তার কথা বলার অবস্থা ছিল না।

পুলিশের হত্যাচেষ্টার সন্দেহ ও তদন্ত

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিনুল ইসলামের বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশের ধারণা শিশুটিকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি বলেন, "শিশুটির বাড়ি কুমিরা। সে কীভাবে এত সকালে ইকোপার্কের ভেতরে পাহাড়ের এত ওপরে গেল, তা জানার চেষ্টা করছি আমরা। শিশুটির অবস্থা আগের চেয়ে উন্নতি হয়েছে। সে এখন কথা বলতে পারছে এবং নাম ও ঠিকানাও বলেছে। আরেকটু সুস্থ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিস্তারিত জানা যাবে।"

পুলিশ এখনো এই ঘটনার পেছনের কারণ ও দায়ী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সম্পর্কে স্পষ্টভাবে কিছু জানাতে পারেনি। তবে তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। শিশুটির পরিচয় ও ঘটনার পূর্ণ বিবরণ জানার জন্য পুলিশ অপেক্ষা করছে।

এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং শিশু নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। পাহাড়ের প্রায় এক হাজার ফুট ওপরে এই দুর্গম এলাকায় শিশুটির উপস্থিতির রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে।