পাকিস্তানের বিমান হামলার পর আফগান তালেবান নেতাদের জরুরি বৈঠক
পাকিস্তানের হামলার পর আফগান নেতাদের জরুরি বৈঠক

পাকিস্তানের বিমান হামলার পর আফগান তালেবান নেতাদের জরুরি বৈঠক

আফগানিস্তানের কাবুলে আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে পাকিস্তান বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সীমান্তবর্তী বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘটিত এসব হামলার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির তালেবান সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। আফগান সরকার এক বিবৃতিতে দৃঢ় ভাষায় জানিয়েছে যে, পাকিস্তান এই হামলা চালিয়ে আফগানিস্তানের ভৌগলিক অখণ্ডতা সরাসরি লঙ্ঘন করেছে এবং কাবুলের এখন এর জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার সংরক্ষিত রয়েছে।

হামলার বিবরণ ও প্রতিক্রিয়া

জানা গেছে, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে পাকিস্তান এফ-১৬ এবং জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে দাবি করেছে যে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসীদের গোপন আস্তানা লক্ষ্য করে সূক্ষ্ম ও নিখুঁত হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। তবে আফগান তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টের মাধ্যমে ভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, পাকিস্তানের বিমানবাহিনী বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং এতে অন্তত ডজনখানেক নিরীহ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ

সংবাদমাধ্যম দ্য উইকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফগান সরকার মনে করছে যে পাকিস্তান নতুন করে হামলা চালিয়ে পূর্বে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতির চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। এই গুরুতর পরিস্থিতিতে আফগানিস্তান সৌদি আরব, কাতার এবং তুরস্কের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোকে অবহিত করেছে। গত বছর আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্তে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছিল, যা মধ্যস্থতাকারীদের হস্তক্ষেপে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে থামানো সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসী হামলা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় উত্তেজনা পুনরায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও উত্তেজনা

পাকিস্তান দাবি করছে যে, সম্প্রতি দেশটির অভ্যন্তরে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলাগুলোর পরিকল্পনা আফগানিস্তান থেকে করা হয়েছে এবং সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আজকের হামলা পরিচালিত হয়েছে। আফগান সরকারের বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোন সময় প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হবে সেটি তালেবান নেতৃবৃন্দই চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করবেন। এই অবস্থানে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়েছে। আফগানিস্তানের কাবুলে বিস্ফোরণস্থল থেকে উড়তে থাকা ধোঁয়া এই সংঘাতের তীব্রতা ও জটিলতাকে প্রতিফলিত করছে।