সিরিয়ায় আইএসের নতুন ডাক: আল-শারা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আহ্বান
সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) আহমেদ আল-শারা সরকারের বিরুদ্ধে যোদ্ধাদের লড়াইয়ে নামার আহ্বান জানিয়েছে। গতকাল শনিবার এক অডিও বার্তায় আইএস মুখপাত্র আবু হুজাইফা আল-আনসারি এই ডাক দেন। প্রায় দুই বছর পর আইএস মুখপাত্রের এটি প্রথম অডিও বার্তা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অনলাইনে প্রকাশিত আগে থেকে রেকর্ড করা এই অডিও বার্তায় আল-আনসারি বলেন, সিরিয়ায় আইএসের সদস্যদের ‘নতুন সিরীয় শাসনব্যবস্থা, তাদের ধর্মনিরপেক্ষ সরকার ও ন্যাশনাল আর্মি’র বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে এবং ‘এটিকেই অগ্রাধিকার’ দিতে হবে।
আইএসের পূর্ববর্তী অবস্থান ও বর্তমান পরিস্থিতি
আল-আনসারির সর্বশেষ অডিও বার্তা প্রকাশ পেয়েছিল ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে। সে সময় তিনি গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে বিশ্বজুড়ে ইহুদিদের হত্যা করতে আইএস–সমর্থকদের আহ্বান জানিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদকে উৎখাত করার পর সিরিয়ার বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দেশটির ক্ষমতায় আসে। অতীতে আল-কায়েদা গোষ্ঠীর সঙ্গে আল-শারার সম্পর্ক ছিল। তবে ক্ষমতায় আসার পর প্রেসিডেন্ট আল-শারা সরকার তাদের উগ্রপন্থী অতীত থেকে সরে এসে একটি মধ্যপন্থী ভাবমূর্তি তুলে ধরার চেষ্টা করছে।
আইএসের ঐতিহাসিক পতন ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ
২০১৪ সালে আইএস সিরিয়া ও ইরাকজুড়ে দ্রুত বিস্তার লাভ করেছিল। যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সমর্থনে ইরাক ২০১৭ সালে আইএসকে পরাজিত করে। এর দুই বছর পর সিরিয়ায় কুর্দি নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর কাছে আইএস পরাজিত হয়। গত মাসে সিরিয়ার সেনারা কুর্দি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অগ্রসর হয়। ফলে কুর্দি নিয়ন্ত্রণাধীন কেন্দ্রগুলোতে বন্দী থাকা আইএস সদস্যদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কুর্দি নেতৃত্বাধীন জোট এসডিএফের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকার দিকে অগ্রসর হচ্ছে সিরিয়ান ন্যাশনাল আর্মি।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও বন্দী স্থানান্তর
ওই সব বন্দিশিবিরের সুরক্ষা ঘিরে চলমান সংশয়ের মধ্যে ওয়াশিংটন সিরিয়া থেকে ৫ হাজার ৭০০–এর বেশি আইএস বন্দীকে ইরাকের কারাগারে স্থানান্তর করেছে। এই পদক্ষেপটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আইএসের পুনরুত্থান নিয়ে উদ্বেগকে প্রতিফলিত করে। প্রথম কোনো সিরীয় প্রেসিডেন্ট হিসেবে ওয়াশিংটন সফর করবেন শারা, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সিরিয়ায় আইএসের এই নতুন আহ্বান দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। মধ্যপ্রাচ্যের এই অঞ্চলে জঙ্গি গোষ্ঠীর ক্রিয়াকলাপ নিয়ে চলমান নজরদারি ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
