ইরানের পারমাণবিক চুক্তির জন্য ট্রাম্পের সামরিক হামলার পরিকল্পনা, ১০ দিনের আল্টিমেটাম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে একটি চুক্তিতে আসার জন্য দেশটির নেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সীমিত আকারে সামরিক হামলার কথা বিবেচনা করছেন। সম্প্রতি এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে আগামী ১০ দিনের মধ্যেই বিশ্ব জানতে পারবে ইরানের সাথে কোনো চুক্তি হচ্ছে নাকি যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এমন মন্তব্য এসেছে। বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড এবং বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ বেশ কিছু ডেস্ট্রয়ার ও যুদ্ধবিমান ইরান সংলগ্ন এলাকার অভিমুখে মোতায়েন করা হয়েছে। এই সামরিক তৎপরতা অঞ্চলটিতে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
চুক্তির খসড়া প্রস্তুতির কাজ চলছে
এদিকে সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া তৈরির কাজ বর্তমানে চলমান। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই খসড়া চুক্তি মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
তবে আলোচনার সমান্তরালে ওই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনাও ক্রমাগত বাড়ছে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানও তাদের সামরিক স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যাপকভাবে জোরদার করেছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন বাহিনীকে সতর্ক করে বার্তা দিয়েছেন। সেখানে তিনি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনকে বিপজ্জনক সামরিক তৎপরতা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ট্রাম্পের কৌশলগত গোপনীয়তা
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রায়ই বলে থাকেন যে তিনি তার পরবর্তী পদক্ষেপ গোপন রাখতে পছন্দ করেন, যাতে প্রতিপক্ষ আগে থেকে কোনো কিছু বুঝতে না পারে। এর আগেও 'অপারেশন মিডনাইট হ্যামার'-এর সময় আলোচনার কথা বলে হঠাৎ করেই সামরিক অভিযান চালিয়েছিল তার প্রশাসন। এই ইতিহাস বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অভিবাসন ও অর্থনীতি নিয়ে অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে থাকা ট্রাম্পের জন্য ইরানের সাথে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত একটি বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে তার 'মাগা' সমর্থক গোষ্ঠী, যারা বিদেশের যুদ্ধে জড়ানোর তীব্র বিরোধী, তাদের মধ্যে এই সামরিক পদক্ষেপ নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির উচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে।
- ট্রাম্পের ১০ দিনের আল্টিমেটাম ইরানের উপর চাপ বৃদ্ধি করেছে
- মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি রেকর্ড পর্যায়ে
- ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মার্কিন তৎপরতাকে বিপজ্জনক বলেছেন
- চুক্তির খসড়া প্রস্তুতির কাজ সুইজারল্যান্ডে চলমান
- রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের ঝুঁকি দেখছেন
এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব সম্প্রদায় উদ্বেগের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে যে আগামী ১০ দিনের মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তিপূর্ণ চুক্তি হবে নাকি অঞ্চলটি নতুন সামরিক সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাবে। ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপই এই প্রশ্নের উত্তর দেবে।
